জয়েন করুন

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে নতুন আবেদন নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। কবে থেকে শুরু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণ?

Published By: Biplab Mondal | Published On:
Share:

পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে সম্প্রসারিত করে চালু হওয়া এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলা উপভোক্তারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পান। দুর্গাপূজার আগে চতুর্থী ও পঞ্চমীর শুভ লগ্নে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, যা উৎসবের মরশুমে বহু পরিবারকে স্বস্তি দিয়েছে।

কিন্তু প্রকল্পের পরিধি এত বড় হওয়া সত্ত্বেও এখনও বহু যোগ্য মহিলা এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন — এই অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠেছে, কোথাও BDO অফিস বা পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভও হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে: নতুন করে নাম নথিভুক্তকরণ কবে থেকে শুরু হবে? এই প্রতিবেদনে নতুন আবেদনের সম্ভাব্য সময়সূচি, যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, অনলাইন ও অফলাইন আবেদন পদ্ধতি এবং স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম — সবকিছু ধাপে ধাপে আলোচনা করা হল।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প: এক নজরে

বিষয় বিবরণ
প্রকল্পের নাম পশ্চিমবঙ্গ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প
কার্যকর তারিখ ১ জুন ২০২৬
আর্থিক সহায়তা মাসে ₹৩,০০০ (প্রতি পরিবারের নারী প্রধানকে)
উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ (পুজোর আগে কিস্তি পাওয়া)
টাকা পাঠানোর পদ্ধতি DBT — আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি
যোগ্যতা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলা, ২৫–৬০ বছর
আবেদন মাধ্যম অনলাইন পোর্টাল ও অফলাইন (ব্লক/পুরসভা/শিবির)
বর্তমান অবস্থা নতুন নাম নথিভুক্তকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত

নতুন আবেদন কবে থেকে শুরু হতে পারে?

বর্তমানে নতুন করে নাম নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া — অনলাইন পোর্টাল এবং অফলাইন দুটোই — সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আগে যাঁরা বিভিন্ন কারণে ফর্ম জমা দিতে পারেননি, তাঁরা এখন সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের ইঙ্গিত অনুযায়ী, নভেম্বর ও ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যেই ফের নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ভিড় এড়াতে ও দ্রুত নথিভুক্তি সম্পন্ন করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে খবর, যেখানে অফলাইনে ফর্ম জমা এবং পোর্টালে অনলাইন নথিভুক্তি — দুটো সুবিধাই পাওয়া যাবে।

তবে কোন নির্দিষ্ট তারিখ থেকে প্রক্রিয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে থাকা তারিখগুলিকে চূড়ান্ত ধরে নেবেন না — অফিসিয়াল ঘোষণা এলেই এখানে আপডেট করা হবে।

Telegram Channel

50,000+ Students Joined

Join

আগের আবেদনের সময়সূচি: গত ২৭ মে ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে আবেদন গ্রহণ চলেছিল ২৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত, প্রায় ৯০ দিনের সময়সীমায়।

৬,১৬৩ জনের টাকা আটকে, কী হচ্ছে সমাধান?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে ভুল বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৬,১৬৩ জন উপভোক্তার কিস্তির টাকা সাময়িকভাবে আটকে রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই উপভোক্তারা অক্টোবরের আটকে থাকা কিস্তি এবং নভেম্বরের প্রাপ্য টাকা একসঙ্গে পাবেন। এর জন্য দ্রুত সংশোধনের কাজ চলছে।

একইসঙ্গে সরকারি অনুদান যাতে শুধু প্রকৃত ও যোগ্য মানুষের কাছেই পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়া নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তাই আপনার নাম তালিকায় থাকলে এবং আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্ক সঠিক থাকলে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

কারা আবেদন করতে পারবেন? (যোগ্যতা)

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই মহিলা এবং পরিবারের নারী প্রধান হতে হবে।
  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • আবেদনকারীর নামে বৈধ ডিজিটাল রেশন কার্ড (BPL/AAY/PHH) থাকা প্রয়োজন।
  • আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক এবং DBT সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।
  • SC, ST এবং সাধারণ শ্রেণির যোগ্য মহিলা — সবাই আবেদন করতে পারেন।

কারা সুবিধা পাবেন না

  • আয়কর দাতা।
  • বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী।
  • পঞ্চায়েত, পুরসভা, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন যাঁরা পান।

জরুরি তথ্য: পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সমস্ত উপভোক্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছেন — তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হয় না। নতুন আবেদন শুধু তাঁদের জন্যই, যাঁরা আগে বাদ পড়েছিলেন বা কোনো কারণে আবেদন করতে পারেননি।

আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে

  • আধার কার্ড (আবেদনকারীর নাম হুবহু আধার অনুযায়ী লিখতে হবে)
  • ভোটার পরিচয়পত্র
  • বৈধ রেশন কার্ড
  • ব্যাঙ্ক পাসবুকের প্রথম পাতা বা ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের কপি
  • রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • বাসস্থানের প্রমাণপত্র
  • আয়ের শংসাপত্র
  • জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য হলে)

সব নথির স্ব-প্রত্যায়িত (self-attested) কপি জমা দিতে হয়।

অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন 

১. রাজ্যের সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে যান এবং ‘Citizen/Family Login’ বেছে নিন। ২. আধার-সংযুক্ত সচল মোবাইল নম্বর দিন। সেই নম্বরে আসা OTP যাচাই করে লগইন করুন। ৩. New Application অপশনে গিয়ে নাম, পিতা/স্বামীর নাম, জন্মতারিখ, সম্পূর্ণ ঠিকানা, রেশন কার্ড নম্বর, পারিবারিক আয় ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। ৪. পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আধার, ভোটার কার্ড ও পাসবুকের স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট সাইজে আপলোড করুন। ৫. ফর্ম সাবমিট করার পর স্ক্রিনে আসা রেফারেন্স নম্বর/অ্যাপ্লিকেশন আইডি লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন — ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস দেখতে এটি লাগবে।

অফলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন

  • নিকটবর্তী ব্লক অফিস (BDO), এসডিও অফিস, পঞ্চায়েত বা পুরসভার নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করুন (কলকাতা পুরসভা এলাকায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিস)।
  • ফর্মটি নীল বা কালো বলপেনে সতর্কভাবে পূরণ করুন — একটি ফর্মে অনেক তথ্য থাকে, তাই তাড়াহুড়ো করবেন না।
  • স্ব-প্রত্যায়িত নথিসহ ফর্ম জমা দিয়ে অবশ্যই অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ (প্রাপ্তিস্বীকারপত্র) নিয়ে আসুন।
  • যাঁরা অসুস্থতা বা বয়সের কারণে অফিসে যেতে পারেন না, তাঁদের জন্য বিডিও-র নেতৃত্বে সরকারি টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হয়।

স্ট্যাটাস চেক করবেন কোথায়?

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ট্যাটাস দেখতে হলে:

  • সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে Citizen/Family Login-এ ঢুকে আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর ও OTP দিয়ে লগইন করুন।
  • জমা দেওয়া আবেদনের বর্তমান অবস্থা সেখানেই দেখা যাবে।
  • ‘Claim’ অপশনটি নতুন আবেদনের জন্য নয় — এটি পুরনো জমা পড়া আবেদনকে আপনার লগইনের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা। নতুন আবেদনের সময় ভুল করে ‘Claim’ ব্যবহার করবেন না।
  • পোর্টালে সরকারি কর্মীদের জন্য আলাদা লগইন থাকে, যেখানে ‘Office User Only’ লেখা থাকে। সেখানে গিয়ে পাসওয়ার্ড চাইলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই — সাধারণ আবেদনকারীর সেটি দরকার নেই।

টাকা না ঢোকার সবচেয়ে বড় কারণ: আধার সিডিং

সরকার টাকা পাঠায় DBT-র মাধ্যমে, তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক (NPCI seeding) থাকা বাধ্যতামূলক। এটি না থাকলে টাকা পাঠানো হলেও অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। NPCI-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘Customer’ সেকশনে Bharat Aadhaar Seeding Enabler (BASE) অপশনে গিয়ে আপনার কোন অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে যুক্ত আছে, তা যাচাই করে নিতে পারেন। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কে গিয়ে আধার সিডিং করিয়ে নিন।

এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন

  • দুবার আবেদন নয়: অফলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পর আবার অনলাইনে আবেদন করলে তথ্যের অমিল হলে ফর্ম বাতিল হতে পারে।
  • ভুয়া লিঙ্কে তথ্য নয়: শুধু .wb.gov.in দিয়ে শেষ হওয়া সরকারি ঠিকানাতেই তথ্য দিন। হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া অচেনা লিঙ্কে আধার নম্বর, ব্যাঙ্কের তথ্য বা OTP দেবেন না।
  • টাকা নয়: নাম নথিভুক্ত করাতে কোনো এজেন্ট বা দালালকে টাকা দিতে হয় না — আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
  • নামের অমিল: ফর্মে নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানা হুবহু আধার কার্ডের মতো লিখুন; বানান ভুল হলেও আবেদন আটকে যেতে পারে।

 

Biplab Mondal

আমি বিপ্লব মণ্ডল, ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ায় একজন কন্টেন্ট রাইটার। গত কয়েক বছরে আমি চাকরি, শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা ধরনের লেখালেখি করেছি।

আরও পড়ুন

যুবশক্তি প্রকল্প ডকুমেন্ট লিস্ট ২০২৬: ৩০০০ টাকা পেতে কী কী কাগজ লাগবে? সম্পূর্ণ গাইড পশ্চিমবঙ্গ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা: মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা, যোগ্যতা, ডকুমেন্ট ও আবেদন কন্যাশ্রী প্রকল্প ২০২৬: K1 ও K2-তে কত টাকা, যোগ্যতা, ডকুমেন্ট লিস্ট ও আবেদন প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ রূপশ্রী প্রকল্প: বিয়েতে ২৫,০০০ টাকা সহায়তা — যোগ্যতা, ডকুমেন্ট ও আবেদন প্রক্রিয়া যুবশ্রী প্রকল্প ২০২৬: মাসে ১৫০০ টাকা বেকারত্ব ভাতা, যোগ্যতা, ডকুমেন্ট ও অনলাইন আবেদন