Ayushman Bharat Card: ৫ লক্ষ টাকার লিমিট শেষ হলে চিকিৎসা বন্ধ হবে? কবে আবার রিসেট হবে

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প(Ayushman Bharat Card) দেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প — যোগ্য পরিবার প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ও ক্যাশলেশ চিকিৎসার সুবিধা পায়। কিন্তু বহু কার্ডধারীর মনে একটা প্রশ্ন ঘোরে: যদি বছরের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা পুরো খরচ হয়ে যায়, তাহলে বাকি সময়ে চিকিৎসা কি বন্ধ হয়ে যাবে?

উত্তরটা এক লাইনে দিলে — সেই আর্থিক বছরের বাকি সময়ের জন্য সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে, তবে স্থায়ীভাবে নয়। নতুন আর্থিক বছর শুরু হলেই লিমিট নিজে থেকে রিসেট হয়ে যায়। তবে লিমিট শেষ হলেই সব পথ বন্ধ হয়ে যায় না — গুরুতর রোগের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি ও বিকল্প সহায়তার সুযোগ আছে। সেটাই বিস্তারিত দেখে নিন।

 আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

বিষয় বিবরণ
বার্ষিক কভারেজ পরিবার প্রতি ৫ লক্ষ টাকা
চিকিৎসার ধরন বিনামূল্যে ও ক্যাশলেশ
সুবিধা কোথায় মেলে আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে
বছরে ভর্তির সংখ্যা ব্যালেন্স থাকা পর্যন্ত যতবার দরকার
লিমিট রিসেট নতুন আর্থিক বছর শুরু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে

লিমিট শেষ হলে কি সত্যিই চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারকে বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য কভারেজ দেওয়া হয়। এই সীমা যদি পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যের চিকিৎসায় পুরোটা খরচ হয়ে যায়, তাহলে সেই আর্থিক বছরের বাকি সময়ের জন্য কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে।

মনে রাখতে হবে — এটা স্থায়ী বাতিল নয়, আজীবনের জন্যও নয়। শুধু ওই বছরের হিসাব শেষ। পরের আর্থিক বছর শুরু হলে আবার পুরো সুবিধা ফিরে আসে।

কবে আবার লিমিট রিসেট হয়

নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ৫ লক্ষ টাকার সীমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিসেট হয়ে যায়। অর্থাৎ কার্ডধারীকে আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হয় না — প্রকল্পের হিসাব নিজে থেকেই নতুন বছরের জন্য পুনর্নির্ধারিত হয় এবং রোগী আবার সুবিধার যোগ্য হয়ে ওঠেন।

Telegram Channel

50,000+ Students Joined

Join

তবে একটা কথা স্পষ্ট করে নেওয়া ভালো: বছরের মাঝখানে লিমিট শেষ হলে সেই বছরটা অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। তাই চিকিৎসার পরিকল্পনা করার সময় বছরের কোন সময়ে আছেন, সেটাও ভেবে দেখুন।

লিমিট শেষের পরেও যে সহায়তার পথ আছে

৫ লক্ষ টাকা পুরো শেষ হলেও যদি অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা বা বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তাহলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথ খোলা থাকে।

১. বিশেষ অনুমতির আবেদন

ক্যান্সার, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা হৃদরোগের মতো জটিল ও গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে জেলার স্বাস্থ্য দপ্তর বা রাজ্য স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বিশেষ অনুমতির জন্য আবেদন করা যায়। সংশ্লিষ্ট জেলার চিফ মেডিকেল অফিসারের (CMO) স্তরে রোগীর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার অনুমোদন মেলার ব্যবস্থা আছে।

২. রাষ্ট্রীয় আরোগ্য নিধি

উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন্দ্র সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় আরোগ্য নিধি’ থেকে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করা যায়।

৩. রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা তহবিল

নিজের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সহায়তা তহবিল থেকেও আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানানো যায়।

এই পথগুলোতে আবেদন করলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নথি লাগবে — তাই আগে জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরে গিয়ে সরাসরি খোঁজ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

চিকিৎসার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই মিলিয়ে নেবেন

  • যতবার দরকার, ততবার ভর্তি: ৫ লক্ষ টাকার ব্যালেন্স যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ বছরে যতবার প্রয়োজন ততবার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা নেওয়া যায়। একবার ভর্তি হলেই “সীমা শেষ” — এমন নয়।
  • শুধু তালিকাভুক্ত হাসপাতালে: সুবিধা মেলে কেবল সরকার-নির্ধারিত এবং আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্ত তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। অন্য হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
  • আগে ব্যালেন্স যাচাই করুন: চিকিৎসা শুরু করার আগেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের আয়ুষ্মান হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করে কার্ডে ঠিক কত টাকা ব্যালেন্স অবশিষ্ট আছে তা নিশ্চিত করে নিন। এতে পরে বিল নিয়ে সমস্যা হবে না।
  • কাগজপত্র রাখুন: ভর্তি, চিকিৎসা ও ছাড়পত্রের সব কাগজ যত্নে রাখুন — বিশেষ অনুমতির আবেদন করতে হলে এগুলোই কাজে লাগবে।
Author Avatar

Biplab Mondal

আমি বিপ্লব মণ্ডল, ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ায় একজন কন্টেন্ট রাইটার। গত কয়েক বছরে আমি চাকরি, শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা ধরনের লেখালেখি করেছি।