Amar Fasal Amar Gola Scheme: ফসল রাখার গোলা বানাতে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা, কারা পাবেন

ফসল তোলার পরেই কৃষকের আসল পরীক্ষা শুরু হয় — সেটা ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় কি না। ঠিকমতো ভাণ্ডার না থাকলে ফসল নষ্ট হয়, দামও কমে যায়, আর কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করে দেন। এই সমস্যার সমাধানেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চালু করেছিল Amar Fasal Amar Gola Scheme — বাংলায় অমর ফসল অমর গোলা প্রকল্প।

এই প্রকল্পে যোগ্য কৃষকরা ফসল রাখার ভাণ্ডার বা গোলা তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা পান — ছোট গোলার জন্য ৫,০০০ টাকা, পাকা গোলার জন্য ১২,০০০ টাকা, আর পেঁয়াজ ভাণ্ডার তৈরির জন্য ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। ২০১৩ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের নোডাল দপ্তর হল কৃষি বিপণন বিভাগ (Agriculture Marketing Department), পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এক নজরে Amar Fasal Amar Gola Scheme

বিষয় বিবরণ
প্রকল্পের নাম অমর ফসল অমর গোলা প্রকল্প
চালু হয় ২০১৩ সাল
সুবিধা ছোট গোলা ₹৫,০০০; পাকা গোলা ₹১২,০০০; পেঁয়াজ ভাণ্ডার ₹২৫,০০০
উপভোক্তা ছোট কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, SHG, কৃষক স্বার্থ গোষ্ঠী, FPO
নোডাল দপ্তর কৃষি বিপণন বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
আবেদনের মাধ্যম অফলাইন আবেদনপত্র

“গোলা” কী এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য

পশ্চিমবঙ্গে ফসল রাখার ভাণ্ডার বা স্টোরেজ কাঠামোকেই “গোলা” বলা হয়। নামের অর্থ থেকেই প্রকল্পের ভাবনা স্পষ্ট — অমর ফসল মানে আমার ফসল, আর অমর গোলা মানে আমার ভাণ্ডার।

প্রকল্পের পিছনে একটি বাস্তব সমস্যা কাজ করেছে। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ার কারণে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে নিজের টাকায় গোলা বানানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে ফসল সংরক্ষণ করতে না পেরে তাঁরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এই অবস্থায় কৃষকদের গোলা নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিতেই সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যগুলো —

Telegram Channel

50,000+ Students Joined

Join
  • ফসল সংরক্ষণের জন্য কৃষকের নিজস্ব ভাণ্ডার তৈরি করা
  • ফসলের অপচয় ও গুণমানহানি কমানো
  • সঠিক সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি করা
  • ছোট ও প্রান্তিক কৃষককে স্বনির্ভর করা

কত টাকা সহায়তা মেলে — তিনটি ধাপ

ভাণ্ডারের ধরন আর্থিক সহায়তা
ছোট গোলা (Small Gola) ₹৫,০০০
পাকা গোলা (Pucca Gola) ₹১২,০০০
পেঁয়াজ ভাণ্ডার (Onion Storage House) ₹২৫,০০০

অর্থাৎ কৃষক কোন ধরনের ভাণ্ডার বানাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে সহায়তার পরিমাণ। পেঁয়াজ চাষিদের জন্য সবচেয়ে বেশি — ₹২৫,০০০।

যোগ্যতার শর্ত — কারা আবেদন করতে পারবেন

  1. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  2. আবেদনকারীর চাষযোগ্য কৃষিজমি থাকা বাধ্যতামূলক।
  3. কেবল নিচের শ্রেণির উপভোক্তারাই আবেদন করতে পারবেন:
    • ছোট কৃষক (Small Farmer)
    • প্রান্তিক কৃষক (Marginal Farmer)
    • কৃষক স্বার্থ গোষ্ঠী (Farmers Interest Group)
    • স্বনির্ভর গোষ্ঠী (Self Help Group)
    • কৃষক উৎপাদক সংস্থা (Farmer Producer Organisation / FPO)

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

আবেদনপত্রের সঙ্গে নিচের নথিগুলো জমা দিতে হবে —

  • পশ্চিমবঙ্গের বাসস্থানের প্রমাণ / ডমিসাইল
  • কিষান ক্রেডিট কার্ড (KCC)
  • আধার কার্ড
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • কৃষিজমির বিবরণ (দলিল/রেকর্ড)
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ

টিপস: সব নথিতে নামের বানান ও জন্মতারিখ হুবহু এক রাখুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যেন কৃষকের নিজের নামে ও সক্রিয় হয় — টাকা সরাসরি ওই অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া — ধাপে ধাপে

এই প্রকল্পে আবেদনের একমাত্র উপায় অফলাইন আবেদনপত্র, আর সেটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। ধাপগুলো হলো —

  1. ফর্ম সংগ্রহ করুন: আবেদনপত্র পাওয়া যায় —
    • ব্লক সহকারী কৃষি আধিকারিকের (Block Assistant Agriculture Officer) অফিস
    • গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস
  2. ফর্ম পূরণ করুন: সব তথ্য সঠিকভাবে লিখুন — বিশেষ করে জমির বিবরণ ও ব্যাঙ্কের তথ্য।
  3. নথি সংযুক্ত করুন: উপরে তালিকাভুক্ত সব কাগজের কপি জুড়ুন।
  4. জমা দিন: পূরণ করা আবেদনপত্র একই অফিসে জমা দিন।
  5. যাচাই: সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা আবেদন ও নথি পরীক্ষা করবেন।
  6. টাকা প্রাপ্তি: যাচাই শেষে অনুমোদিত হলে সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

হেল্পলাইন ও যোগাযোগ

  • হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২২৫২০৫৭৪
  • দপ্তর: কৃষি বিপণন বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
Author Avatar

Biplab Mondal

আমি বিপ্লব মণ্ডল, ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ায় একজন কন্টেন্ট রাইটার। গত কয়েক বছরে আমি চাকরি, শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা ধরনের লেখালেখি করেছি।