Bangla Shasya Bima Scheme | পশ্চিমবঙ্গ বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প ফসল নষ্ট হলে কীভাবে টাকা পাবেন

আকাশের মেজাজের ওপর কৃষকের হাত নেই — অতিবৃষ্টি, খরা, শিলাবৃষ্টি বা পোকামাকড়ের হামলায় এক রাতেই সারা বছরের পরিশ্রম শেষ হয়ে যেতে পারে।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প এই ঝুঁকির সামনে কৃষককে দাঁড় করিয়ে দেওয়াই যেন প্রথা। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই প্রথা ভাঙতে চালু করেছে Bangla Shasya Bima Scheme — বাংলায় বাংলা শস্য বিমা প্রকল্প।

এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় কথা হল — কৃষককে বিমার প্রিমিয়ামের এক পয়সাও দিতে হয় না। পুরো প্রিমিয়াম সরকার বহন করে, আর ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেয় বিমা সংস্থা। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের নোডাল দপ্তর হল কৃষি দপ্তর (Department of Agriculture), পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এটিকে West Bengal Bangla Shasya Crop Insurance Scheme নামেও ডাকা হয়।

Bangla Shasya Bima Scheme

বিষয় বিবরণ
প্রকল্পের নাম বাংলা শস্য বিমা প্রকল্প
চালু হয় ২০১৯ (২০১৯-২০ থেকে কার্যকর)
সুবিধা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফসল বিমা
প্রিমিয়াম পুরোটাই রাজ্য সরকার বহন করে
নোডাল দপ্তর কৃষি দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
ফসল খরিফ ও রবি — দুটোই কভার করা
আবেদনের মাধ্যম আবেদনপত্র (গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিনামূল্যে)

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সুবিধা | পশ্চিমবঙ্গ বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দুটি —

  • ফসল নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
  • কৃষকের আয় স্থিতিশীল রাখা, যাতে ফসলহানির কারণে তাঁকে কোনো চরম সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।

সুবিধার দিক থেকে —

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফসল বিমা — কোনো প্রিমিয়াম দিতে হয় না।
  • ফসলহানি হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
  • বিমার ঝুঁকি কভারেজ চলে বপন থেকে ফসল তোলার পর পর্যন্ত।

কোন কোন ক্ষতিতে বিমার টাকা মেলে

নিচের কারণগুলোতে ফসল নষ্ট হলে কৃষক ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারেন —

Telegram Channel

50,000+ Students Joined

Join
  • Prevented Sowing — বপনই করা যায়নি (যেমন বৃষ্টির অভাবে)।
  • Failed Sowing — বপন হয়েছে কিন্তু অঙ্কুরোদগম হয়নি।
  • Mid Season Adversity — মাঝ-মরশুমে প্রতিকূল আবহাওয়া।
  • Crop Sowing to Harvesting Loss — বপন থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত যেকোনো ক্ষতি।
  • Harvesting Loss — ফসল তোলার সময়ের ক্ষতি।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কী হবে, তা নির্ধারণ করে বিমা সংস্থা — মাঠ পরিদর্শন বা গ্রাউন্ড ইন্সপেকশনের পরেই। অর্থাৎ কাগজে-কলমে নয়, জমিতে ক্ষতি দেখে টাকার অঙ্ক ঠিক হয়।

কারা যোগ্য — আবেদনের শর্ত

  1. আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা কৃষক হতে হবে।
  2. রাজ্যের সব কৃষক — যাঁদের মধ্যে ভাগচাষি (Sharecropper) ও প্রজাভূমি/টেন্যান্ট ফার্মার-ও আছেন — আবেদন করতে পারেন।
  3. ঋণগ্রহীতা কৃষকদের (Loanee Farmers) জন্য প্রকল্পটি বাধ্যতামূলক।

ভাগচাষি ও টেন্যান্ট ফার্মারদের কথা আলাদা করে বলা হয়েছে — এটা এই প্রকল্পের একটা বড় সুবিধা, কারণ অনেক সময় জমির মালিকানা না থাকলেও তাঁরা চাষ করেন এবং ঝুঁকি সমানভাবে বহন করেন।

কোন ফসলগুলি কভার করা হয় (রবি মরশুম)

রবি মরশুমে যে ফসলগুলো বিমার আওতায় আসে —

  • বোরো (গ্রীষ্মকালীন) ধান
  • গম
  • রবি ভুট্টা ও গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা
  • ছোলা (গ্রাম)
  • মসুর ডাল (Lentil)
  • গ্রীষ্মকালীন মুগ ডাল
  • সর্ষে (Mustard)
  • গ্রীষ্মকালীন তিল
  • গ্রীষ্মকালীন চিনাবাদাম
  • আলু
  • আখ
  • খেসারি

খরিফ মরশুমের ফসলও এই প্রকল্পের আওতায় আসে — সেই তালিকা ও নথিভুক্তির শেষ তারিখ সংশ্লিষ্ট মরশুমের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট | পশ্চিমবঙ্গ বাংলা শস্য বীমা প্রকল্প

নথিভুক্তির সময় এবং ক্ষতিপূরণের দাবি করার সময় — দুই ক্ষেত্রেই নিচের নথিগুলো লাগে —

  • ভোটার আইডি কার্ড
  • আধার কার্ড
  • জমির রেকর্ডের বিবরণ (Land Record Details)
  • পাট্টাদার পাসবই (Pattedar Passbook)
  • জমি দখলের শংসাপত্র (Land Possession Certificate)
  • চাষের প্রমাণ (Proof of Cultivation)
  • বিমা সার্টিফিকেট (Insurance Certificate)
  • চুক্তি বা সম্মতিপত্রের বিবরণ (Contract / Agreement Details) — প্রযোজ্য ক্ষেত্রে

টিপস: ভাগচাষি বা টেন্যান্ট ফার্মার হলে চুক্তির কাগজপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করুন — জমির মালিকানা না থাকায় এই নথিই আপনার দাবির ভিত্তি।

আবেদন প্রক্রিয়া

  1. ফর্ম সংগ্রহ করুন: বাংলা শস্য বিমার আবেদনপত্র পাওয়া যায় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
  2. ফর্ম পূরণ করুন: কৃষকের নিজের তথ্য, জমির বিবরণ ও চাষকৃত ফসলের নাম সঠিকভাবে লিখুন।
  3. নথি সংযুক্ত করুন: উপরে তালিকাভুক্ত সব কাগজের কপি জুড়ুন।
  4. জমা দিন: পূরণ করা ফর্ম ও নথি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিন।
  5. নথিভুক্তি নিশ্চিত করুন: বিমা সার্টিফিকেট বা নথিভুক্তির প্রমাণ সংগ্রহ করে যত্নে রাখুন।

শেষ তারিখ জরুরি: প্রতিটি ফসলের নথিভুক্তির আলাদা শেষ তারিখ থাকে। উদাহরণ হিসেবে ২০২৩-২৪ রবি মরশুমে আলু, গম, ছোলা, মসুর, সর্ষে, খেসারি ও রবি ভুট্টার শেষ তারিখ ছিল ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩; বোরো ধানের ৩১ জানুয়ারি ২০২৪; আর গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা, মুগ, তিল, চিনাবাদাম ও আখের ১৫ মার্চ ২০২৪। চলতি মরশুমের তারিখ অবশ্যই পঞ্চায়েত অফিস বা বিমা সংস্থার কাছ থেকে জেনে নিন — তারিখ হাতছাড়া হলে বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে না।

ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণের নিয়ম

ফসল নষ্ট হলে চুপ করে থাকবেন না — দ্রুত জানাতে হবে —

  1. বিমা সংস্থাকে ফোন করুন: ফসলহানির খবর সঙ্গে সঙ্গে বিমা সংস্থার হেল্পলাইনে জানান।
  2. Crop Loss রিপোর্ট করুন: পোর্টাল বা ফোনে “Report Crop Loss” অপশন বেছে নিন।
  3. সংস্থার নম্বর নিন: এরপর স্ক্রিনে বা কথাবার্তায় সংশ্লিষ্ট বিমা সংস্থার নম্বর দেওয়া হবে — সেখানে যোগাযোগ করুন।
  4. মাঠ পরিদর্শন: সংস্থার প্রতিনিধি জমিতে গিয়ে ক্ষতি দেখবেন।
  5. ক্ষতিপূরণ: পরিদর্শনের পর নির্ধারিত অঙ্ক কৃষকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

মনে রাখবেন: ক্ষতির খবর যত দেরিতে দেবেন, দাবি তত দুর্বল হবে। তাই ফসল নষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রিপোর্ট করুন এবং জমির ছবি তুলে রাখুন।

হেল্পলাইন ও যোগাযোগ

বাংলা শস্য বিমা প্রকল্পের হেল্পলাইন:

  • ০৮৩৭৩০৯৪০৭৭
  • ০৮৩৩৬৯৫৭১৮১
  • ০৮৩৩৬৯০০৬৩২

ফসলহানি রিপোর্টের হেল্পলাইন: ১৮০০২০৯৫৯৫৯

Agriculture Insurance Company of India Ltd. (AIC):

  • ১৮০০৫৭২০২৫৮
  • ০৩৩-২৩২৪৭০৪৫
  • ০৩৩-২৩২৪৭০৭৫
Author Avatar

Biplab Mondal

আমি বিপ্লব মণ্ডল, ডিজিটাল নিউজ মিডিয়ায় একজন কন্টেন্ট রাইটার। গত কয়েক বছরে আমি চাকরি, শিক্ষা এবং ক্যারিয়ার বিষয়ক নানা ধরনের লেখালেখি করেছি।