দশম শ্রেণির বাংলা সিলেবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আশাপূর্ণা দেবীর লেখা গল্প ‘জ্ঞানচক্ষু’। আজকের আর্টিকেলে আমরা ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর (Gyanchakshu Class 10 Question Answer), MCQ, এবং নামকরণের সার্থকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।”
আজকের ক্লাসে থাকছে: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের সারাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর। এই পোস্টে তোমরা গল্পটির সহজ ভাষায় সারসংক্ষেপ, নামকরণের সার্থকতা এবং পরীক্ষার উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পেয়ে যাবে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এই আলোচনা তোমাদের বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
এক ঝলকে
জ্ঞানচক্ষু গল্পে পরিচিতি ও চরিত্র-পরিচিতি
গল্প: জ্ঞানচক্ষু লেখিকা: আশাপূর্ণা দেবী উৎস: ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন শ্রেণি: দশম (মাধ্যমিক), বাংলা — প্রথম গল্প প্রধান চরিত্র: তপন
আশাপূর্ণা দেবী বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক। নারীজীবন ও শিশুমনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর লেখা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তিনি একটি কিশোরের চোখ দিয়ে সাহিত্য, সত্য আর আত্মমর্যাদা — এই তিনটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছেন।
জ্ঞানচক্ষু চরিত্র পরিচিতি
জ্ঞানচক্ষু গল্পের সারাংশ — ঘটনাক্রমে
তপন ছোটবেলা থেকেই মনে করত, লেখকরা যেন আকাশ থেকে পড়া এক বিশেষ জীব — সাধারণ মানুষের মতো তাঁরা চলাফেরা করেন না। এই ধারণা তার মাথায় এতটাই গেঁথে ছিল যে লেখক শব্দটাই তার কাছে এক ধরনের জাদুর মতো শোনাত। ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে তপন মামাবাড়িতে আসে, হোমটাস্কের খাতা নিয়ে। সেখানে জানতে পারে — তার নতুন মেসোমশাই নাকি বই লেখেন। এই কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে যায়। এরপর সে মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখতে শুরু করে। দেখে — লেখক হয়েও তিনি অন্য সবার মতোই দাড়ি কামান, স্নান করেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, এমনকি খবরের কাগজ নিয়ে তর্কও করেন। কোথাও কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। এই দেখাতেই তপনের প্রথম জ্ঞানচক্ষু খুলে যায় — লেখকরাও নিছক মানুষ।
এই উপলব্ধিতে তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা লেখক-সত্তা জেগে ওঠে। এক দুপুরবেলা সে তিনতলার সিঁড়িতে বসে নিজের স্কুলে ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা গল্প লেখে — নাম দেয় ‘প্রথম দিন’।তার চিরকালের বন্ধু ছোটোমাসি গল্পটা পড়ে এবং একরকম জোর করেই ছোটোমেসোর হাতে তুলে দেয়। মেসোমশাই পড়ে জানান — একটু আধটু কারেকশন করে ছাপতে দেওয়া চলে, কারণ তিনি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার এক সহকারী সম্পাদককে চেনেন। অনেকদিন কেটে যায়। গল্প ছাপা হয় না। বাড়ির লোকেরা তপনকে নিয়ে ঠাট্টা করে, তাকে ‘কবি’, ‘সাহিত্যিক’, ‘কথাশিল্পী’ বলে ডাকে। মেজোকাকু বলেন, “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম”। তপন প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিল।
তারপর এক বিকালে ছোটোমাসি ও ছোটোমেসো বেড়াতে আসেন, হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা। সূচিপত্রে লেখা — ‘প্রথম দিন’ (গল্প), শ্রীতপন কুমার রায়। বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। তপন ভাবে, পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে! কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ থাকে না। বাড়ির সবাই বলে — মেসোমশাই তাঁর পরিচিতির জোরেই গল্পটা ছাপিয়েছেন। “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই” বলে সবাই মেসোর প্রশংসা করে। তপনকে গল্প পড়ে শোনাতে বলা হলে সে বুঝতে পারে — সংশোধনের নামে মেসোমশাই পুরো গল্পটাই বদলে দিয়েছেন। সে যেন নিজের লেখাই চিনতে পারে না। গভীর অপমানবোধ নিয়ে তপন পড়া থামিয়ে ছাদে দৌড়ে যায়। আর সেখানে দাঁড়িয়ে সংকল্প করে — এরপর যদি কখনও লেখা ছাপাতে হয়, সে নিজেই পত্রিকায় জমা দেবে। ছাপা হোক বা না হোক, অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া কৃতিত্ব সে নেবে না।
জ্ঞানচক্ষু গল্পের নামকরণের সার্থকতা
যেকোনো সাহিত্যকর্মের নামকরণ হয় বিষয়বস্তু, চরিত্র বা মূল ভাব অনুযায়ী — আবার কখনও তা হয় ব্যঞ্জনাধর্মী। ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ অন্তর্দৃষ্টি বা জ্ঞানরূপ চোখ — অর্থাৎ সত্যকে ভেতর থেকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
আশাপূর্ণা দেবীর এই গল্পে তপনের জ্ঞানচক্ষু দুইবার উন্মোচিত হয়।
প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন
তপনের বদ্ধমূল ধারণা ছিল — লেখকরা সাধারণ মানুষের ঊর্ধ্বে। কিন্তু নতুন মেসোমশাই, যিনি পেশায় কলেজের অধ্যাপক এবং সত্যিকার লেখক, তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে তপন বোঝে — লেখকরাও তার বাবা বা কাকাদের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করেন। এই দেখাতেই তার প্রথম চোখ খোলে।
দ্বিতীয় ও প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন
তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খোলে গল্পের একেবারে শেষে। ‘সন্ধ্যাতারা’-য় গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর সে জানতে পারে — মেসোমশাই কারেকশনের নামে গল্পটি আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন। তার নিজের কৃতিত্ব সেখানে কিছুই নেই। এই ঘটনায় তার শিশুসুলভ রোমান্টিক কল্পনার মোহভঙ্গ হয়। সে বুঝতে পারে, অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া প্রতিষ্ঠা আসলে চূড়ান্ত অপমান।
সার্থকতা
তপনের এই আত্মমর্যাদাবোধের জাগরণ ও বাস্তববোধের উন্মেষই হলো প্রকৃত জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন। গল্পের বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত ভাবের সঙ্গে ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামটি সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। নামটি গল্পের কোনো একটি ঘটনাকে বোঝায় না — বরং পুরো গল্পের মূল বার্তাকে ইঙ্গিত করে। তাই নামকরণ সর্বাংশে সার্থক ও ব্যঞ্জনাধর্মী।
উদ্ধৃতি ব্যাংক — প্রসঙ্গসহ
এই গল্প থেকে উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্ন প্রায়ই আসে। নিচের তালিকাটি মুখস্থ রাখলে যেকোনো উদ্ধৃতির প্রসঙ্গ ধরে উত্তর শুরু করতে পারবেন।
জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর MCQ
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের রচয়িতা কে?
উত্তর: (খ) আশাপূর্ণা দেবী
২. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: (ক) কুমকুম
৩. পত্রিকায় প্রকাশ পাওয়া তপনের গল্পের নাম কী?
উত্তর: (গ) প্রথম দিন
৪. তপনের গল্প কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
উত্তর: (গ) সন্ধ্যাতারা
৫. তপনের ছোটোমাসি তপনের থেকে কত বছরের বড়ো?
উত্তর: (খ) বছর আষ্টেকের
৬. তপনের নতুন মেসোমশাই পেশায় ছিলেন —
উত্তর: (গ) কলেজের অধ্যাপক
৭. “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।” কথাটি ছিল —
উত্তর: (গ) তপনের মেসো একজন লেখক
৮. “তবু লিখছে। লুকিয়ে লিখছে।” — এভাবে লেখার কারণ —
উত্তর: (গ) যেন নেশায় পেয়েছে
৯. “এর মধ্যে তপন কোথা?” — কিসের মধ্যে?
উত্তর: (ক) ছাপা গল্পের মধ্যে ব্যাখ্যা: ছাপা গল্পটি পড়ে তপন দেখে তার নিজের কিছুই নেই — মেসো সব বদলে দিয়েছেন। তাই সে প্রশ্ন করে, “এর মধ্যে তপন কোথা?”
১০. “এত কাছে থেকে কখনো দেখেনি তপন” — কাকে?
উত্তর: (ক) লেখককে
১১. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম” — উক্তিটির বক্তা —
উত্তর: (গ) মেজোকাকু ব্যাখ্যা: তপনের গল্প এখনও ছাপা হয়নি — সেই সময়ে মেজোকাকু এই কথাটি বলে পরোক্ষে ঠাট্টা করেন।
১২. ‘প্রথম দিন’ গল্পটির লেখকের নাম —
উত্তর: (খ) শ্রীতপন কুমার রায় ব্যাখ্যা: সূচিপত্রে পুরো নাম ছাপা হয় — ‘শ্রীতপন কুমার রায়’। ‘শ্রী’ শব্দটি নামের অংশ হিসেবে ছাপা হয়।
১৩. “রত্নের মূল্য জহুরীর কাছেই” — এখানে ‘জহুরী’ বলা হয়েছে —
উত্তর: (ঘ) তপনের নতুন মেসোকে
১৪. “বসে বসে ডিম ভাজা আর চা খায়” — কে?
উত্তর: (ক) ছোটোমাসি
১৫. তপনের চিরকালের বন্ধু —
উত্তর: (খ) ছোটোমাসি
১৬. তপন তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল —
উত্তর: (খ) দুপুরবেলা
১৭. তপন গল্প লিখতে কোথায় উঠে গিয়েছিল?
উত্তর: (খ) তিনতলার সিঁড়িতে
১৮. তপনের লেখা প্রথম গল্পটির প্রথম পাঠক কে?
উত্তর: (খ) ছোটোমাসি
১৯. তপনের লেখা গল্পটির বিষয়বস্তু ছিল —
উত্তর: (খ) স্কুলে ভরতি হওয়ার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি
২০. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?” — অলৌকিক ঘটনাটি হলো —
উত্তর: (ক) তপনের গল্প ছাপা হয়েছে
২১. “এদেশের কিছু হবে না” — কথাটি বলেন —
উত্তর: (গ) ছোটোমেসো
২২. ‘জ্ঞানচক্ষু’ কথাটির আভিধানিক অর্থ কী?
উত্তর: (খ) অন্তর্দৃষ্টি বা ভেতরের চোখ
২৩. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের” — কারণ —
উত্তর: (গ) লেখকদের সম্পর্কে তার ভুল ধারণা ভেঙে যাওয়ায়
২৪. সূচিপত্রে তপনের পুরো নাম ছিল —
উত্তর: (খ) শ্রীতপন কুমার রায়
২৫. তপন নতুন গল্প লিখতে শুরু করে —
উত্তর: (খ) সন্ধ্যাতারার অভিজ্ঞতা ভুলে থাকতে
২৬. মেসোমশাই কোন পত্রিকার সহকারী সম্পাদককে চিনতেন?
উত্তর: (গ) সন্ধ্যাতারা
২৭. তপন মামাবাড়ি এসেছিল —
উত্তর: (খ) ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে
জ্ঞানচক্ষু অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (SAQ) — ২০টি
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কার লেখা? এর উৎস উল্লেখ করো।
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী রচিত। উৎস — তাঁর ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন।
২. তপন লেখকদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করত?
উত্তর: তপন মনে করত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন — তাঁরা যেন আকাশ থেকে পড়া এক বিশেষ জগতের জীব।
৩. তপনের ছোটোমেসো কী কাজ করতেন?
উত্তর: উত্তর: তিনি একজন কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক ছিলেন।
৪. তপন কখন গল্প লিখতে শুরু করে?
উত্তর: ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে মামাবাড়িতে আসার পর, লেখক মেসোকে দেখে।
৫. তপন কীভাবে বুঝল লেখকরাও সাধারণ মানুষ?
উত্তর: নতুন মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখে — তিনি অন্য সবার মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, ঘুমোন, স্নান করেন।
৬. তপনের লেখা প্রথম গল্পের নাম কী?
উত্তর: ‘প্রথম দিন’।
৭. তপন কোন পত্রিকায় গল্প ছাপার আশায় ছিল?
উত্তর: ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায়।
৮. তপনের প্রথম গল্পের প্রথম পাঠক কে?
উত্তর: ছোটোমাসি — তপনের চিরকালের বন্ধু।
৯. তপন নিজের গল্প পড়ে হতাশ কেন হয়?
উত্তর: কারণ ছোটোমেসো সংশোধনের নামে পুরো গল্পটাই পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন — লেখাটা তপনের নিজের বলে মনে হয়নি।
১০. গল্পের শেষে তপন কী সংকল্প করে?
উত্তর: ভবিষ্যতে নিজেই তার লেখা পত্রিকায় জমা দেবে, যাতে অন্য কেউ তার কৃতিত্ব না নিতে পারে।
১১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ কথার অর্থ কী?
উত্তর: অন্তর্দৃষ্টি বা ভেতরের চোখ — অর্থাৎ সত্যকে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।
১২. তপনের চোখ ‘মার্বেল’ হয়ে গিয়েছিল কেন?
উত্তর: মেসো যে একজন লেখক — এই কথা শুনে অবাক হয়ে যাওয়ায়।
১৩. তপনকে ‘রত্ন’ আর মেসোকে ‘জহুরি’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: তপন প্রতিভাবান (রত্ন), আর মেসো সেই প্রতিভা চিনতে পারেন (জহুরি) — তাই।
১৪. তপনের বাড়ির লোকেরা তপনকে কী কী নামে ডাকত?
উত্তর: ‘কবি’, ‘সাহিত্যিক’, ‘কথাশিল্পী’।
১৫. ছোটোমাসি তপনের গল্প নিয়ে কী করেছিল?
উত্তর: একরকম জোর করেই গল্পটা ছোটোমেসোর হাতে তুলে দেয়।
১৬. তপন মামাবাড়িতে কী নিয়ে এসেছিল?
উত্তর: হোমটাস্কের খাতা।
১৭. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে ‘অলৌকিক ঘটনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা।
১৮. তপন কেন ছাদে দৌড়ে যায়?
উত্তর: নিজের নামে অন্যের লেখা গল্প পড়ে অপমানিত বোধ করায়।
১৯. গল্পের শেষে তপনের কোন বোধ জাগরত হয়?
উত্তর: আত্মমর্যাদার বোধ — নিজের সৃষ্টির প্রতি নিজের অধিকার ও দায়িত্বের উপলব্ধি।
২০. ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণটি কী ধরনের?
উত্তর: ব্যঞ্জনাধর্মী — কারণ নামটি গল্পের অন্তর্নিহিত ভাবকে ইঙ্গিত করে।
৩ নম্বরের প্রশ্ন — ৬টি
১. “তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।” — কারণ কী? (১+২)
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি নেওয়া হয়েছে। তপন ছোটবেলা থেকেই মনে করত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন — তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরের এক বিশেষ সত্তা।
ছোটোমাসির বিয়ের পর তপন জানতে পারে, তার নতুন মেসোমশাই নাকি বই লেখেন — অর্থাৎ তিনি একজন লেখক। এই কথাটা শুনেই তপনের চোখ মার্বেল হয়ে যায়। কারণ যে মানুষটিকে সে এতদিন কল্পনার জগতে রেখেছিল, তিনি বাস্তবে তার নিজের পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছেন — এই সত্যটা তার পক্ষে হঠাৎ বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।” — তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও। (১+২)
উত্তর: আলোচ্য উক্তিতে ‘রত্ন’ বলতে তপনকে এবং ‘জহুরি’ বলতে তার নতুন মেসোমশাইকে বোঝানো হয়েছে।
তপন যে একটি গল্প লিখেছে, তা প্রথমে কেউ গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি — বাড়ির লোকেরা ঠাট্টা করেছিল। কিন্তু ছোটোমেসো গল্পটি পড়ে বুঝতে পারেন, কাঁচা হাতের হলেও ছেলেটির ভেতরে সম্ভাবনা আছে। তাই তিনি সংশোধন করে হলেও গল্পটি পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেন।
এই উক্তির তাৎপর্য হলো — প্রতিভাকে চিনতে পারে কেবল সেই ব্যক্তি, যিনি নিজে সেই ক্ষেত্রে দক্ষ। তপনের লেখার গুণ মেসোমশাইই প্রথম বুঝেছিলেন, কারণ তিনিও একজন লেখক।
৩. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?” — কোন ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: তপনের লেখা ‘প্রথম দিন’ নামক গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনাটিকে ‘অলৌকিক’ বলা হয়েছে।
তপন কখনও ভাবতেই পারেনি যে তার মতো একটি ছোট ছেলের লেখা ছাপার অক্ষরে বেরোবে। তার কাছে লেখকরা ছিলেন অন্য জগতের মানুষ — সেই লেখকদের জগতে ঢুকে পড়া তার কাছে একেবারেই অবিশ্বাস্য ব্যাপার ছিল। তাই যখন সে সূচিপত্রে নিজের নাম দেখে — ‘প্রথম দিন’ (গল্প), শ্রীতপন কুমার রায় — তখন তার কাছে সেটা অলৌকিক ঘটনার মতোই মনে হয়।
৪. “যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না।” — ‘আহ্লাদ’ হবার কথা ছিল কেন? ‘আহ্লাদ খুঁজে না পাওয়ার’ কারণ কী? (১+২)
উত্তর: তপনের নিজের লেখা গল্প প্রথমবার পত্রিকায় ছাপা হয়েছে — এই ঘটনায় তার ভয়ংকর আহ্লাদ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু আহ্লাদ সে খুঁজে পায় না, কারণ ছাপা পত্রিকা হাতে নিয়ে বাড়ির সবাই তপনের প্রশংসা না করে তার মেসোমশাইয়ের প্রশংসা করতে শুরু করে। সবাই বলে — মেসোই গল্পটা সংশোধন করেছেন এবং তাঁর পরিচিতির জোরেই গল্পটা ছাপা হয়েছে। ফলে তপনের নিজের কৃতিত্ব যেন মুছে যায়। নিজের সাফল্যের আনন্দ অন্যের নামে চলে যাওয়ায় সে আর আহ্লাদ খুঁজে পায় না।
৫. তপন নিজের গল্প পড়তে গিয়ে অপমানিত বোধ করেছিল কেন?
উত্তর: পত্রিকায় ছাপা গল্পটি পড়তে গিয়ে তপন দেখে — মেসোমশাই ‘কারেকশন’ বা সংশোধনের নামে গল্পটির প্রতিটি লাইন প্রায় বদলে দিয়েছেন। যে লেখাটা তার নিজের মনে হয়েছিল, সেটাই এখন তার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত।
নিজের নামে অন্যের লেখা পড়তে গিয়ে তার ভেতরে গভীর গ্লানিবোধ জাগে। সে বুঝতে পারে, এই কৃতিত্ব তার নয়। এই উপলব্ধি তার আত্মমর্যাদায় আঘাত করে, ফলে সে পড়া থামিয়ে ছাদে দৌড়ে যায়।
৬. তপনের চরিত্রে কোন কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র তপন একটি কিশোর। তার চরিত্রে যে বৈশিষ্ট্যগুলি বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছে —
- কল্পনাপ্রবণতা: লেখকদের নিয়ে তার ভাবনা ছিল রোমান্টিক ও কল্পনাময়।
- লেখার আগ্রহ ও সম্ভাবনা: মেসোকে দেখে সে নিজেই গল্প লিখে ফেলে।
- সংবেদনশীলতা: নিজের লেখা বদলে যাওয়ায় সে গভীরভাবে আঘাত পায়।
- আত্মমর্যাদাবোধ: অপমানিত হয়ে সে নিজের অধিকারের কথা ভাবে।
- দৃঢ় সংকল্প: ভবিষ্যতে নিজেই নিজের লেখা জমা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে।
৫ নম্বরের প্রশ্ন — ৫টি
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। (৫)
উত্তর: যেকোনো সাহিত্যকর্মের নামকরণ করা হয় বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ভাব অনুযায়ী — আবার কখনও তা হয় ব্যঞ্জনাধর্মী। ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ অন্তর্দৃষ্টি বা জ্ঞানরূপ চোখ। আশাপূর্ণা দেবীর এই গল্পে প্রধান চরিত্র তপনের দুইবার জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলনের কথা বলা হয়েছে।
প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন: কিশোর তপনের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে লেখকরা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব। কিন্তু তার নতুন মেসোমশাই, যিনি পেশায় কলেজের অধ্যাপক এবং সত্যিকার লেখক, তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখে তপনের প্রথমবার জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়। সে বুঝতে পারে — লেখকরাও তার বাবা বা কাকাদের মতোই দাড়ি কামান, সিগারেট খান, সাধারণ জীবনযাপন করেন।
দ্বিতীয় ও প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মীলন: তপনের প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু খোলে গল্পের একেবারে শেষে। তার লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে সে জানতে পারে — মেসোমশাই কারেকশনের নামে গল্পটি আগাগোড়াই পরিবর্তন করে দিয়েছেন। অর্থাৎ তার নিজের কৃতিত্ব সেখানে কিছুই নেই। এই ঘটনায় তার শিশুসুলভ রোমান্টিক কল্পনার মোহভঙ্গ হয়। সে বুঝতে পারে, অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া প্রতিষ্ঠা আসলে চূড়ান্ত অপমানের। এরপর সে সংকল্প করে — নিজের কাঁচা লেখা সে নিজেই ছাপতে দেবে, ছাপা হোক বা না হোক।
সার্থকতা: তপনের এই আত্মমর্যাদাবোধের জাগরণ ও বাস্তববোধের উন্মেষই হলো প্রকৃত জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন। গল্পের বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত ভাবের সঙ্গে ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামটি সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই নামকরণটি সর্বাংশে সার্থক ও যথাযথ।
২. “কোথাও কিছু উল্টোপাল্টা নেই, অন্যরকম নেই, একেবারে নিছক মানুষ” — উক্তিটি কার সম্পর্কে? তিনি যে ‘একেবারে নিছক মানুষ’, তপন কীভাবে বুঝেছিল? (২+৩)
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি তপনের নতুন মেসোমশাই সম্পর্কে বলা হয়েছে — যিনি পেশায় কলেজের অধ্যাপক এবং একজন সত্যিকার লেখক।তপন ছোটবেলা থেকেই লেখকদের সম্পর্কে এক অদ্ভুত কল্পনা পোষণ করত। তার মনে হতো, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন — তাঁরা যেন অন্য গ্রহের প্রাণী।
কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখে তার এই ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। তপন লক্ষ করে — লেখক হয়েও তিনি অন্য সবার মতোই দাড়ি কামান, স্নান করেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, বিশ্রাম নেন। বাড়ির বড়দের মতোই তিনি খবরের কাগজ নিয়ে আলোচনা করেন, কখনও তর্কেও জড়িয়ে পড়েন। আবার সুযোগ পেলে সিনেমা দেখতে বা বেড়াতে যান। তাঁর দৈনন্দিন জীবনে তপন কোনো অস্বাভাবিকতা বা রহস্যময়তা খুঁজে পায় না।
এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তপন উপলব্ধি করে — লেখক মানে কোনো আলাদা সত্তা নন, তাঁরা নিছক মানুষ, তপনদের মতোই।
৩. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ কীভাবে খুলেছিল? (৫)
উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে অন্তরের বোধ জাগ্রত হওয়াকে বোঝায় — অর্থাৎ ভুল ধারণা ভেঙে সত্যকে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা।গল্পের শুরুতে তপনের মনে লেখকদের সম্পর্কে এক ধরনের ভুল ধারণা ছিল। সে ভাবত, লেখকরা সাধারণ মানুষের মতো নন; তাঁরা অসাধারণ ও বিশেষ মানুষ।
নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের এই ধারণায় প্রথম পরিবর্তন আসে। সে বুঝতে পারে, একজন লেখকও সাধারণ মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন — এটাই তার প্রথম জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন।পরবর্তীতে নিজের গল্প প্রকাশের অভিজ্ঞতা তপনকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। মেসোমশাইয়ের অতিরিক্ত সংশোধনের ফলে সে উপলব্ধি করে — নিজের সৃষ্টির প্রতি নিজের অধিকার ও আত্মমর্যাদা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া প্রশংসা বা প্রতিষ্ঠা আসলে নিজের সত্তাকে মুছে দেয়।
এইভাবে তপনের মনে বাস্তব জ্ঞান ও আত্মসচেতনতার বিকাশ ঘটে। এই উপলব্ধিই তার প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন — যা তাকে পরিণত ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
৪. “তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের!” — কোন প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে? তপনের এই উপলব্ধির তাৎপর্য কী? (২+৩)
উত্তর: নিজের লেখা গল্পে অন্যের লেখা লাইন পড়ে শোনানোর প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে।
‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপা হওয়ার পর বাড়ির সবাই তাকে নিজের গল্প পড়ে শোনাতে বলে। কিন্তু পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে — মেসোমশাই সংশোধনের নামে প্রতিটি বাক্য বদলে দিয়েছেন। যে লাইনগুলি সে পড়ছে, সেগুলি তার নিজের নয়। মেসোর পাকা হাতের লেখা ঢুকে পড়েছে তার কাঁচা লেখায়।
তাৎপর্য: এই উপলব্ধি তপনের কাছে সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে আসে। কারণ বাইরের কারও কাছে অপমানিত হওয়া আর নিজের সৃষ্টির ভেতরেই নিজেকে হারিয়ে ফেলা — দ্বিতীয়টাই বেশি যন্ত্রণার। এর মধ্য দিয়ে তপন বুঝতে পারে, কৃতিত্বের ভাগীদার হওয়ার চেয়ে নিজের সত্তা হারানো অনেক বড় ক্ষতি। এই উপলব্ধিই তাকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলে এবং ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিজে জমা দেওয়ার সংকল্পে পৌঁছে দেয়।
২০২৭-এর পরীক্ষার ধাঁচ ও প্রস্তুতি
মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্রে গদ্য অংশ থেকে সাধারণত চার ধরনের প্রশ্ন আসে — বহু বিকল্পভিত্তিক (MCQ), অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক (SAQ), ৩ নম্বরের প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের রচনাধর্মী প্রশ্ন। ‘জ্ঞানচক্ষু’ প্রথম গল্প হওয়ায় এখান থেকেই প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
২০২৭-এর পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
- নম্বর বণ্টন জেনে নিন: পর্ষদের সর্বশেষ প্রশ্নকাঠামো অনুযায়ী কত নম্বরের কতটি প্রশ্ন আসবে, তা নিজের স্কুলের শিক্ষকের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিন — কারণ বছরে বছরে এই কাঠামো বদলায়।
- প্রথম গল্প = বাড়তি গুরুত্ব: প্রথম অধ্যায় থেকে সাধারণত সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।
- নামকরণ প্রস্তুত রাখুন: ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামকরণের সার্থকতা ৫ নম্বরের জন্য সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন।
- উদ্ধৃতি মুখস্থ করুন: উপরের উদ্ধৃতি ব্যাংক থেকে অন্তত ৫টি প্রসঙ্গসহ মুখস্থ রাখুন।
উত্তরে নম্বর তোলার কৌশল
বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী উত্তর জানা সত্ত্বেও কম নম্বর পায়, কারণ তারা উত্তর লেখার কৌশল জানে না। নিচের নিয়মগুলো মানলে নম্বর বাড়বেই।
৩ নম্বরের উত্তরে (১+২ কাঠামো): প্রথম বাক্যে উদ্ধৃতিটি কোথা থেকে নেওয়া এবং কার সম্পর্কে — সেটা লিখুন। তারপর ২-৩ বাক্যে কারণ ব্যাখ্যা করুন। মোট ৪-৫ বাক্য যথেষ্ট।
৫ নম্বরের উত্তরে (ভূমিকা + মূল অংশ + উপসংহার):
- ভূমিকা: ১-২ বাক্যে প্রসঙ্গ নির্ধারণ।
- মূল অংশ: ৩-৪টি পয়েন্ট, প্রতিটি আলাদা অনুচ্ছেদে।
- উপসংহার: ১-২ বাক্যে সিদ্ধান্ত।
তিনটি সোনার নিয়ম:
- প্রশ্নের ভাষা ধরুন: প্রশ্নে “কারা”, “কেন”, “কীভাবে” — কোনটা চাওয়া হয়েছে সেটা আগে বুঝুন।
- উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করুন: উদ্ধৃতিভিত্তিক প্রশ্নে উদ্ধৃতির প্রসঙ্গ আগে লিখুন — পরীক্ষক এটাই প্রথমে দেখেন।
- নিজের ভাষায় লিখুন: হুবহু মুখস্থ উত্তর সবাই লেখে; নিজের ভাষায় গুছিয়ে লিখলে আলাদা নম্বর মেলে।
ছাত্রছাত্রীদের সাধারণ ভুল
- লেখিকার নাম ভুল: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী — মহাশ্বেতা দেবী নন। ইন্টারনেটে এই ভুল উত্তর ছড়িয়ে আছে, সাবধান।
- পত্রিকার নাম গুলিয়ে ফেলা: তপনের গল্প ছাপা হয় সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় — শুকতারা বা ধ্রুবতারা নয়।
- গল্পের নাম ভুল: তপনের গল্পের নাম ‘প্রথম দিন’।
- ছোটোমাসির বয়স: তপনের থেকে বছর আষ্টেকের বড়ো।
- নামকরণে শুধু একটি দিক লেখা: অনেকেই শুধু প্রথম জ্ঞানচক্ষুর কথা লেখে। ৫ নম্বর পেতে দুইবারের উন্মোচনই লিখতে হবে।
- উদ্ধৃতির প্রসঙ্গ না লেখা: সরাসরি ব্যাখ্যায় ঢুকে গেলে নম্বর কাটা যায়।
দ্রুত রিভিশন (পরীক্ষার আগের রাতে)
সেলফ টেস্ট — নিজেকে পরীক্ষা করুন
উত্তর না দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। সব মিললে বুঝবেন, আপনি প্রস্তুত।
- ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের লেখিকা কে? ______
- গল্পটি কোন সংকলন থেকে নেওয়া? ______
- তপনের গল্পের নাম কী? ______
- কোন পত্রিকায় গল্প ছাপা হয়? ______
- তপনের পুরো নাম কী? ______
- ছোটোমাসি তপনের থেকে কত বড়ো? ______
- তপন কোথায় বসে গল্প লিখেছিল? ______
- ‘জ্ঞানচক্ষু’ শব্দের অর্থ কী? ______
- তপন শেষে কোথায় যায়? ______
- নামকরণটি কী ধরনের? ______
উত্তর: ১. আশাপূর্ণা দেবী ২. কুমকুম ৩. প্রথম দিন ৪. সন্ধ্যাতারা ৫. শ্রীতপন কুমার রায় ৬. বছর আষ্টেকের ৭. তিনতলার সিঁড়িতে ৮. অন্তর্দৃষ্টি ৯. ছাদে ১০. ব্যঞ্জনাধর্মী
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্র: জ্ঞানচক্ষু গল্পটি কার লেখা?
উ: আশাপূর্ণা দেবী। এটি তাঁর ‘কুমকুম’ গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্র: জ্ঞানচক্ষু নামকরণ কেন সার্থক?
উ: তপনের দুইবার জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন ঘটে — প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে ভুল ধারণা ভাঙলে, পরে নিজের সৃষ্টির প্রতি আত্মমর্যাদার বোধ জাগলে। এই অন্তর্দৃষ্টির জাগরণই নামকরণকে সার্থক করেছে।
প্র: তপনের গল্পের নাম কী ছিল?
উ: ‘প্রথম দিন’ — যা ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্র: জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপনের বয়স কত?
উ: গল্পে তপনের নির্দিষ্ট বয়স বলা নেই। তাকে একজন কিশোর হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্র: তপন কেন ছাদে দৌড়ে যায়?
উ: নিজের নামে ছাপা গল্পে মেসোর লেখা পড়ে অপমানিত বোধ করায়।
প্র: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল বার্তা কী?
উ: নিজের সৃষ্টির প্রতি আত্মমর্যাদা রাখা এবং অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া প্রতিষ্ঠাকে কৃতিত্ব না ভাবা।





