মাত্র মাধ্যমিক পাশ করেই সরকারি খাতে চাকরির সুযোগ খুঁজছেন? তাহলে এবারের সবচেয়ে বড় সুযোগটি এসেছে ভারতীয় ডাক বিভাগের (India Post) দিক থেকে। দেশের বিভিন্ন সার্কেলে গ্রামীণ ডাক সেবক বা GDS পদে বহু শূন্যপদ পূরণের জন্য অনলাইন আবেদন আহ্বান করা হয়েছে — আর সবচেয়ে বড় কথা, এই নিয়োগে কোনো লিখিত পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ নেই। নির্বাচন হবে শুধুমাত্র মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে তৈরি মেরিট লিস্ট দেখে।
ভারত সরকারের সংযোগ মন্ত্রকের অধীন ডাক বিভাগ ২০ অগাস্ট ২০২৬-তে “GDS Online Engagement Schedule-II, July-2026” শীর্ষক বিজ্ঞপ্তি (নং: ১৭-১২/২০২৬-GDS) জারি করেছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (BPM), অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (ABPM) এবং ডাক সেবক — এই তিন ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী এবার মোট শূন্যপদের সংখ্যা ২৩ হাজার ৭ শতাধিক (২৩,৭৫৭), যদিও রাজ্য ও ডিভিশন-ভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাচ্ছে অফিসিয়াল পোর্টালেই।
এই প্রতিবেদনে আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, যোগ্যতা, বয়সসীমা, আবেদন ফি, বেতন কাঠামো এবং ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া — সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
এক ঝলকে
India Post GDS Recruitment 2026: এক নজরে
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (সময়সূচি)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আগের শিডিউলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবার চলবে না। Schedule-II-এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছে — এটি ডাক বিভাগের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কারা আবেদন করতে পারবেন?
- যে কোনো সরকার-স্বীকৃত বোর্ড থেকে দশম শ্রেণির (Secondary School Examination) পাস সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
- গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ে পাসিং মার্কস থাকা বাধ্যতামূলক — এই দুটি বিষয়ে ফেল করে দশমে পাশ করলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
- যে রাজ্যে আবেদন করছেন, সেই রাজ্যের নির্ধারিত স্থানীয় ভাষা (Local Language) অন্তত দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া থাকতে হবে। রাজ্যভিত্তিক ভাষার তালিকা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির Annexure-III-তে দেওয়া আছে।
- সাইকেল চালাতে জানা এবং কম্পিউটারে কাজ করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিপত্র (undertaking) জমা দিতে হয়।
মনে রাখবেন, অচেনা বা অস্বীকৃত বোর্ডের “সমমান” সার্টিফিকেট দিয়ে এই পদে আবেদন করা যায় না।
বয়সসীমা ও ছাড়
আবেদন জমাদানের শেষ তারিখ অনুযায়ী প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেওয়া হয়েছে:
কোন কোন পদে নিয়োগ হবে?
- ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (BPM): গ্রামের ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান। ডাক বিতরণ, সঞ্চয় হিসাব, ইউনিট ও স্কিম-সংক্রান্ত কাজ দেখাশোনা করতে হয়।
- অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্রাঞ্চ পোস্টমাস্টার (ABPM): BPM-এর সহকারী হিসেবে ডাক বিতরণ, বুকিং ও অফিসের নিত্যদিনের কাজকর্ম সামলাতে হয়।
- ডাক সেবক (Dak Sevak): মূলত ডাক ও পার্সেল বিতরণের কাজ, বিভাগের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।
- মনে রাখা দরকার, GDS পদটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মিত সিভিল সার্ভিস পদ নয় — এটি একটি স্বতন্ত্র engagement, যার মেয়াদ ও শর্ত আলাদা।
বেতন কাঠামো (TRCA)
কাজের ধরন অনুযায়ী ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে দৈনিক ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। বেতন TRCA (Time Related Continuity Allowance) পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়:
Basic Pay-এর সঙ্গে ভাতা (DA) যোগ হলে নিয়োগের শুরুতেই BPM-দের মাসিক আয় প্রায় ₹২০,০০০-র কাছাকাছি হয়, আর ABPM/ডাক সেবকদের প্রায় ₹১৬,০০০-র মতো।
আবেদন ফি কত?
নির্বাচন প্রক্রিয়া: পরীক্ষা নেই, মেরিটেই চাকরি
এই নিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হল এর স্বচ্ছ ও সহজ নির্বাচন পদ্ধতি। কোনো লিখিত পরীক্ষা, কোনো ইন্টারভিউ — কিছুই নেই। প্রক্রিয়াটি এইরকম:
১. দশম শ্রেণিতে প্রাপ্ত নম্বরকে শতকরা যোগ (aggregate) করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেরিট লিস্ট তৈরি হয়। ২. রাজ্য ও ডিভিশন-ভিত্তিক ক্যাটাগরি-অনুযায়ী প্রার্থীদের নম্বর ক্রমে সাজানো হয়। ৩. মেরিট অনুযায়ী ডাক আসে এবং নির্দিষ্ট তারিখে যেতে বলা হয়। ৪. শেষ ধাপে মূল সনদপত্র যাচাই (Document Verification) সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
কোভিড-১৯-এর কারণে যে বোর্ড নম্বর না দিয়ে শুধু উত্তীর্ণ ঘোষণা করেছিল, সে ক্ষেত্রে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমস্ত প্রার্থীকে সমান ৬৬.৬৭% হিসেব করে নেয়।
ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদন শুধুমাত্র অফিসিয়াল পোর্টালে (indiapost.gov.in/gdsonlineengagement) অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে। ডাকে, হাতে বা অন্য কোনো মাধ্যমে পাঠানো আবেদন চলবে না।
- ওয়ান-টাইম রেজিস্ট্রেশন: পোর্টালে গিয়ে মোবাইল নম্বর (OTP-র মাধ্যমে যাচাই) ও ইমেল আইডি দিয়ে নতুন রেজিস্ট্রেশন করুন।
- শিক্ষাগত তথ্য প্রবেশ: বোর্ডের নাম, পাশের সাল এবং দশম শ্রেণিতে প্রাপ্ত নম্বর সঠিকভাবে দিন। স্থানীয় ভাষা অনুযায়ী আপনার সার্কেল ও ডিভিশন বেছে নিন।
- কাগজপত্র আপলোড: পাসপোর্ট সাইজের ছবি, স্বাক্ষর এবং নির্দেশিকায় বলা নথিপত্র নির্ধারিত আকারে ও ফরম্যাটে আপলোড করুন।
- আবেদন জমা ও ফি প্রদান: সব তথ্য মিলিয়ে নিয়ে ফর্ম জমা দিন এবং প্রযোজ্য হলে ₹১০০ ফি অনলাইনে দিন। ফি প্রদান নিশ্চিত হলেই আবেদন সফল বলে গণ্য হবে।
- সংশোধনের সুযোগ: ভুল থাকলে ২৩–২৪ সেপ্টেম্বরের সংশোধন উইন্ডোতে ঠিক করে নিন।
আবেদনের সময় যে কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন
- দশম শ্রেণির মার্কশিট ও পাস সার্টিফিকেট
- আধার কার্ড বা অন্য পরিচয়পত্র
- জন্মনিবন্ধন বা বয়সের প্রমাণপত্র
- জাতিভিত্তিক সনদ (প্রযোজ্য হলে)
- প্রতিবন্ধিত্বের সনদ (প্রযোজ্য হলে)
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও স্বাক্ষর (স্ক্যান করা)
মেরিট তালিকা কখন বেরোবে?
আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যাচাই-বাছাই সেরে আগামী অক্টোবর ২০২৬ নাগাদ প্রথম মেরিট তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তালিকা প্রকাশ পেলে একই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখা যাবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে।
আবেদনকারীদের জন্য কিছু জরুরি পরামর্শ
- যত বেশি নম্বরে মাধ্যমিক পাশ, তত দ্রুত মেরিটে সুযোগ — তাই নম্বর দেওয়ার সময় মার্কশিট হুবহু মিলিয়ে নিন।
- একাধিক ডিভিশনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে পছন্দের ক্রম (preference) যত্ন নিয়ে দিন।
- স্থানীয় ভাষার নিয়ম বাদ দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে — বিজ্ঞপ্তির Annexure-III অবশ্যই দেখে নিন।
- শেষ দিনে সাইট ভারী হয়ে যায়; আবেদন ও ফি প্রদান আগেভাগেই সেরে ফেলুন।
- কোনো তৃতীয় পক্ষের এজেন্ট বা ব্রোকারের কাছে টাকা দেবেন না — আবেদন সম্পূর্ণ নিজে করা যায়, প্রয়োজনে পোর্টালের হেল্পডেস্ক ব্যবহার করুন।
অফিসিয়াল লিংক
- আবেদন ও বিজ্ঞপ্তি:
- বিজ্ঞপ্তি নম্বর: ১৭-১২/২০২৬-GDS, তারিখ: ২০.০৮.২০২৬
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্য জানানোর উদ্দেশ্যে লেখা। চূড়ান্ত ও প্রামাণিক তথ্যের জন্য ডাক বিভাগের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও ওয়েবসাইট দেখে নিন।





