TRENDS:

TET Wrong Question Case: অবশেষে মিলল বিচার! প্রাথমিক টেটের ভুল প্রশ্নে এবার ৬ নম্বর পাবে সব পরীক্ষার্থী

Share:

TET Wrong Question Case: দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের (Primary TET) ভুল প্রশ্ন মামলায় যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষার ৬টি ভুল প্রশ্নের জন্য সমস্ত পরীক্ষার্থীকেই অতিরিক্ত ৬ নম্বর দিতে হবে। এক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া পূর্ববর্তী রায়কেই মান্যতা দিয়ে বহাল রেখেছে বিচারপতি পি. এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালে ২০১৪-র টেট পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পরেই ৬টি প্রশ্ন এবং উত্তরের অপশন নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক শুরু হয় এবং একদল পরীক্ষার্থী কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তৎকালীন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিশ্বভারতীর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি কমিটি হাইকোর্টে রিপোর্ট দিয়ে নিশ্চিত করে যে, ওই ৬টি প্রশ্ন বা তার উত্তরের অপশনগুলি আক্ষরিক অর্থেই ভুল ছিল।

শুরুতে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, যাঁরা ওই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা (Attempt) করেছেন, কেবল তাঁরাই নম্বর পাবেন। কিন্তু এই নির্দেশের পর জল গড়ায় ডিভিশন বেঞ্চে। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, প্রশ্ন ভুল থাকার দায় সম্পূর্ণ পর্ষদের, পরীক্ষার্থীদের নয়। তাই সকল পরীক্ষার্থীকেই ৬ নম্বর দিতে হবে। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল স্বয়ং রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং ২০১৭ সালের কিছু টেট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী। অবশেষে দীর্ঘ শুনানির পর সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়কেই চূড়ান্ত সিলমোহর দিল।

চাকরিপ্রার্থীদের ওপর প্রভাব

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর সামনে নতুন দরজা খুলে গেল। যে সমস্ত পরীক্ষার্থী কাট-অফ মার্কস থেকে ১ থেকে ৬ নম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার কারণে এতদিন টেট উত্তীর্ণ হতে পারেননি, এই অতিরিক্ত ৬ নম্বর যুক্ত হওয়ায় তাঁরা এবার সরাসরি টেট উত্তীর্ণ বলে গণ্য হবেন। এর ফলে আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এবং ইন্টারভিউতে অংশগ্রহণের আইনি অধিকার পাবেন তাঁরা। দীর্ঘ এক দশকের আইনি ও মানসিক টানাপোড়েনের শেষে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এটি এক বিরাট স্বস্তি।

পর্ষদের পরবর্তী পদক্ষেপ

শীর্ষ আদালতের এই রায়ের পর এবার বল পর্ষদের কোর্টে। নতুন করে পাশ করা এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে কীভাবে আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কবে তাঁদের সংশোধিত শংসাপত্র (Certificate) দেওয়া হবে, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খুব শিগগিরই পর্ষদের তরফ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

Biplab Mondal

Learndisha.com is a trusted companion for aspirants in West Bengal, providing government job updates, exam details, current affairs, along with information on schemes and scholarships. With simple, high-quality study materials offered completely free, it helps you move closer to your goals with confidence.

More Updates