WBCHSE Semester System: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সেমিস্টার পদ্ধতি বাতিল হওয়া নিয়ে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তার অবসান ঘটাল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)।গত ২ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকায় (মেমো নম্বর: L/PR/180/2026) সংসদের সভাপতি ড. পার্থ কর্মকার এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সেমিস্টার পদ্ধতি বাতিলের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং আগামী দিনের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাগুলি নতুন সেমিস্টার পদ্ধতি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে।
এক ঝলকে
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুয়ো বিজ্ঞপ্তির নেপথ্যে এআই (AI)
সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে একটি বিজ্ঞপ্তি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার পদ্ধতি বাতিল করেছে। ওই ভুয়ো নির্দেশিকায় বলা হয়, আগামীতে পরীক্ষার্থীদের পুরনো সিলেবাস এবং বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতি মেনেই পড়াশোনা করতে হবে।
তবে, ওই নোটিশটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে সেটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে থাকা বিকৃত লোগো, সরকারি সিলমোহর এবং ভুল ঠিকানা দেখে প্রথম থেকেই শিক্ষক মহলে এর সত্যতা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
এক নজরে গুজব ও তার সত্যতা
-
ভাইরাল দাবি: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য সেমিস্টার সিস্টেম বাতিল করে পুরনো বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
-
প্রযুক্তির অপব্যবহার: যাচাই করে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া ওই নোটিশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নিপুণভাবে জাল করা হয়েছে।
-
সন্দেহের সূত্রপাত: ভুয়ো নোটিশটিতে থাকা বিকৃত সরকারি সিলমোহর, লোগোর ভুল গঠন এবং ভুল ঠিকানা দেখেই শিক্ষক মহল প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
সংসদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্পষ্টীকরণ
ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে যাতে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিদ্যাসাগর ভবন থেকে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) নিচের বিষয়গুলি স্পষ্ট করেছে:
-
গুজব নস্যাৎ: সেমিস্টার সিস্টেম বাতিলের খবরটি সম্পূর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। পুরনো বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার রটনাটি একেবারেই ভুল।
-
দায় অস্বীকার: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংসদের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।
-
কাঠামো অপরিবর্তিত: রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাগত কাঠামো পূর্বনির্ধারিত নিয়ম মেনেই চলবে।
একনজরে নতুন সেমিস্টার কাঠামো
জাতীয় ও রাজ্য শিক্ষানীতির ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গই দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে সম্পূর্ণ সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করেছে। এর উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হলো:
-
একাদশ শ্রেণি: ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার চালু হয়েছে।
-
দ্বাদশ শ্রেণি: ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার শুরু হয়েছে।
-
পরীক্ষার সময়সূচি: তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা সেপ্টেম্বর মাসে এবং চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে নেওয়ার জন্য কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।
-
মূল্যায়ন পদ্ধতি: ছাত্রছাত্রীরা যাতে সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় OMR শিট এবং MCQ নির্ভর প্রশ্নকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে।
সংসদের সতর্কবার্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সংসদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সেমিস্টার পদ্ধতির সফল রূপায়ণের কাজ চলছে এবং ২০২৭ সালের পরীক্ষার্থীরা এই নতুন কাঠামোর অধীনেই মূল্যায়িত হবেন।
এই ভুয়ো খবরের বিষয়ে পড়ুয়াদের সতর্ক করতে রাজ্যের সমস্ত প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, পরীক্ষা, সিলেবাস বা শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো আপডেটের জন্য বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র সংসদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





