Biometric Attendance: রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণ বা ডি.এল.এড. (D.El.Ed.) কোর্সের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি ডি.এল.এড. কলেজগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুয়া—সকলের জন্যই বায়োমেট্রিক (Biometric Attendance) বা আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হলো। পর্ষদের পক্ষ থেকে জারি করা নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, উপস্থিতি নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কড়াকড়িভাবে পালন করতে হবে। যদি কোনো কলেজ পর্ষদের এই নির্দেশিকা অমান্য করে বা বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মূলত শিক্ষক-শিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে পঠনপাঠনে স্বচ্ছতা আনতে, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করতে এবং উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো রকম গাফিলতি বা ফাঁকিবাজি রুখতেই পর্ষদ এই বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
পুরনো নির্দেশিকাতেই এবার কড়া পদক্ষেপ পর্ষদের
শিক্ষক শিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে পঠনপাঠনের সার্বিক গুণগত মান বজায় রাখতে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন বা এনসিটিই (NCTE) দীর্ঘদিন ধরেই কড়া অবস্থান নিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্য পূরণেই ২০১৯ সালের জুলাই মাসে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়েছিল তারা। এনসিটিই-র সেই নির্দেশিকা মেনে ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারের এসসিইআরটি (SCERT) রাজ্যের সমস্ত সরকারি ডি.এল.এড কলেজগুলিতে এই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে। এবার সরকারি কলেজগুলির দেখানো সেই একই পথে হেঁটে রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি ডি.এল.এড প্রতিষ্ঠানগুলির উপস্থিতির হারে স্বচ্ছতা আনতে এবং রাশ টানতেই এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।
সময়সীমা ও বাধ্যতামূলক হাজিরা
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বনির্ভর (Self-financed) বা বেসরকারি ডি.এল.এড. (D.El.Ed.) কলেজগুলিকে দ্রুত এই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি জারির মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিটি কলেজকে নিজস্ব ভবনে হাজিরা যন্ত্র বসানোর কাজ শেষ করতে হবে। এই নিয়ম শুধু পড়ুয়াদের জন্যই নয়, কলেজের সমস্ত নিযুক্ত শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের (Non-teaching staff) জন্যও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেককেই এখন থেকে মেশিনের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি
হাজিরার ক্ষেত্রে যাতে বিন্দুমাত্র কারচুপি বা অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে কলেজগুলিকে বাড়তি দায়িত্ব দিয়েছে পর্ষদ।
-
প্রতিদিনের উপস্থিতির সম্পূর্ণ রেকর্ড সংশ্লিষ্ট কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
-
পর্ষদের আধিকারিকরা যাতে নিয়মিত এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালাতে পারেন, তার জন্য প্রতি সপ্তাহে ওয়েবসাইটের এই তথ্যগুলি আপডেট করতে হবে।
নির্দেশ অমান্য করলে বাতিল হতে পারে অনুমোদন
বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যে কোনো রকম আপস করতে নারাজ, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো বেসরকারি ডি.এল.এড. কলেজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই বায়োমেট্রিক যন্ত্র বসাতে ব্যর্থ হয় বা নির্দেশিকা পালনে গড়িমসি করে, তবে চরম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে এনসিটিই (NCTE) আইন, ১৯৯৩-এর ১৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সংশ্লিষ্ট কলেজের অনুমোদন (Affiliation) সম্পূর্ণরূপে বাতিল পর্যন্ত করে দেওয়া হতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পর্ষদ।





