WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান! অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। বিশেষ করে মৃত সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের পরিবারগুলির জন্য বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এল অর্থ দপ্তর। সম্প্রতি মৃত কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) মেটানোর ব্যাপারে বিস্তারিত নির্দেশিকা বা নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ দপ্তরের পেনশন শাখা থেকে গত ২৩শে মার্চ, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি মেমো (নম্বর: ৭৫-এফ(পেন)) অনুযায়ী, ১লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের যে বিপুল পরিমাণ ডিএ এবং ডিআর বকেয়া ছিল, তা এবার মিটিয়ে দেওয়া হবে। এই বকেয়া টাকা সরাসরি মৃত কর্মীদের বৈধ নমিনি (Nominee) বা আইনি উত্তরাধিকারীদের (Legal Heirs) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে।
বকেয়া মেটানোর শুরু কোথা থেকে: গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দেয়—২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পড়ে থাকা বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে! শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেই কার্যত নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়।
কাদের অ্যাকাউন্টে কীভাবে ঢুকছে টাকা: মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই রাজ্য অর্থ দপ্তর কোমর বেঁধে নেমে পড়ে বকেয়া মেটানোর কাজে। ইতিমধ্যেই বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। নিয়মানুযায়ী, কর্মরত কর্মচারীদের বকেয়া টাকা ঢুকছে সোজা তাঁদের জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে। অন্যদিকে, গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
মৃত কর্মীদের পরিবারের জন্য নতুন নিয়ম: বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের টাকা মেটানোর কাজ শুরু হলেও, একটা বড় প্রশ্ন ছিল—যেসব সরকারি কর্মী বা পেনশনভোগী ইতিমধ্যেই প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের পরিবার কীভাবে এই বকেয়া টাকা পাবে? সেই জট কাটাতেই এবার এই নতুন মেমো বা নির্দেশিকা জারি করল সরকার। এর ফলে মৃত কর্মীদের আইনি উত্তরাধিকারী বা নমিনিদের কাছে তাঁদের হকের টাকা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট ও সহজ পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হলো।
এক ঝলকে
আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
মৃত কর্মীর নমিনি বা আইনি উত্তরাধিকারীদের বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য অতি দ্রুত নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
- সময়সীমা: রাজ্য সরকারের বকেয়া ডিএ প্রদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- আবেদনের স্থান: মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বকেয়ার ক্ষেত্রে মৃত কর্মীর সর্বশেষ অফিস প্রধানের (Last Head of Office বা HOO) কাছে আবেদনপত্র জমা করতে হবে। অন্যদিকে, মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিআর (DR) বকেয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের (Pension Disbursing Authority) কাছে।
- আবেদনের সঙ্গে বৈধ নথিপত্র, যেমন ডেথ সার্টিফিকেট, উত্তরাধিকারের প্রমাণপত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ তথ্য জমা দিতে হবে।
মৃত পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণ (DR) প্রদানের নিয়ম
পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া ডিআর প্রদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখা হয়েছে:
১.নমিনি নির্দিষ্ট করা থাকলে (সবচেয়ে সহজ উপায়): ট্রেজারি, পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে থাকা PPO (পেনশন পেমেন্ট অর্ডার) বা ‘ফর্ম-এ’ (FORM-A)-তে যদি নমিনির নাম উল্লেখ থাকে, তবে বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁর কাছেই যাবে। আর যদি দেখা যায় যে, বর্তমানে যিনি ফ্যামিলি পেনশন (Family Pension) পাচ্ছেন এবং নথিতে থাকা নমিনি—দু’জন আসলে একই ব্যক্তি, তাহলে তো আর কোনো চিন্তাই নেই! ট্রেজারি কর্তৃপক্ষ কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই সরাসরি সেই ফ্যামিলি পেনশনারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিআর (DR)-এর টাকা ট্রান্সফার করে দেবে।
২. ফর্মে নমিনির কোনো তথ্য না থাকলে কী হবে? যদি ডিসবার্সিং অথরিটির (Disbursing Authority) কাছে থাকা নথিতে কোনো নমিনির নামই না থাকে, তাহলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই! এই ক্ষেত্রে মৃত কর্মীর আইনি উত্তরাধিকারীরা (Legal Heirs) তাঁদের হকের বকেয়া টাকা পাবেন। তবে হ্যাঁ, এর জন্য একটি কাজ করতে হবে। উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ইস্যু করা আইনি উত্তরাধিকার শংসাপত্র বা ‘লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট’ (Legal Heir Certificate) সঠিক প্রমাণ হিসেবে জমা করতে হবে।
মৃত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) পাওয়ার ৩টি বড় নিয়ম
কর্মরত অবস্থায় বা অবসরের পর মারা যাওয়া কর্মীদের বকেয়া টাকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা মূলত নির্ভর করছে মৃত্যুর সময়কাল এবং কর্মীর ‘HRMS ID’ থাকার ওপর। পুরো প্রক্রিয়াটিকে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। চলুন, একনজরে দেখে নিই:
১. মৃত্যু যদি ১লা এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫-এর মধ্যে হয়ে থাকে: এই ক্ষেত্রে একটু কাজ করতে হবে। সর্বশেষ যে অফিসে কর্মী কাজ করতেন, সেখানকার প্রধানকে (PSA) মৃত কর্মীর নামে একটি বিশেষ বা নতুন ‘HRMS ID’ তৈরি করতে হবে। এরপর তাঁর ‘ই-সার্ভিস বুক’ (e-Service Book) আপডেট করা হবে। সব ঠিক থাকলে DDO ডব্লিউবিআইএফএমএস (WBIFMS) পোর্টালের মাধ্যমে নিখুঁত হিসেব কষে বকেয়া টাকা সোজা যোগ্য উত্তরাধিকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবেন!
২. মৃত্যু যদি ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫-এর পর হয় (আর HRMS ID থেকে থাকে): এখানে কোনো ঝুটঝামেলা নেই! যেহেতু অনলাইনে কর্মীর তথ্য আগে থেকেই আছে, তাই DDO সরাসরি WBIFMS পোর্টালের মাধ্যমে হিসেব করে নমিনির অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দেবেন। নতুন করে কোনো আইডি বানানোর দরকার পড়বে না।
৩. মৃত্যু যদি ৩১শে ডিসেম্বর ২০১৫-এর পর হয় (কিন্তু HRMS ID না থাকে): ডেপুটেশনে থাকা বা অন্য কোনো টেকনিক্যাল কারণে যদি কর্মীর HRMS আইডি না থাকে, তবে চিন্তার কিছু নেই! প্রথম পদ্ধতির মতোই নতুন আইডি তৈরি করে ই-সার্ভিস বুক আপডেট করা হবে, আর তারপর DDO হিসেব করে টাকা মিটিয়ে দেবেন।
কোথাও আটকে গেলে কী করবেন? (হেল্পলাইন ও সহায়তা)
উত্তরাধিকারীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় যদি কোনো রকম টেকনিক্যাল সমস্যা হয় বা বুঝতে অসুবিধা হয়, তার জন্য রাজ্য সরকার দুটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে। যেকোনো দরকারে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন:
-
📞 হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২২৫৩৫৪১৭
-
📧 ইমেল আইডি: ifms-wb@gov.in