WB DA Arrears: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে! রাজ্যের গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ‘WB DA Arrears’ মেটানোর কাজে এবার রীতিমতো কোমর বেঁধে নামল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। প্রক্রিয়াটি যাতে দ্রুত শেষ করা যায়, তার জন্য নেওয়া হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই দীর্ঘ সময়ের জমে থাকা বকেয়া ডিএ-র (DA) চূড়ান্ত হিসেব কষতে তৎপর হয়েছে সরকার। আর সেই কারণেই সমস্ত জেলার ডিআই-দের (District Inspector বা DI) কাছ থেকে একেবারে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য তলব করা হয়েছে।
রিপোর্ট জমার কড়া ডেডলাইন: বিষয়টির গুরুত্ব এতটাই যে, গত ১লা এপ্রিল এই নির্দেশিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং সমস্ত ডিআই-দের একেবারে নির্দিষ্ট ছকে বা ফরম্যাটে ২রা এপ্রিলের মধ্যেই এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! বোঝাই যাচ্ছে, মাদ্রাসা কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া আর কোনোভাবেই ঝুলিয়ে রাখতে রাজি নয় শিক্ষা দপ্তর।
এক ঝলকে
সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ! বকেয়া ডিএ নিয়ে নবান্নের মেগা প্ল্যানটা ঠিক কী?
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬! এই দিনটাই ছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) কর্মীদের জন্য একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরই ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পড়ে থাকা দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আর এই পুরো টাকা মেটানোর কাজটা কিন্তু যেমন তেমনভাবে হচ্ছে না, খোদ সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তৈরি হওয়া ‘মনিটরিং কমিটি’-র কড়া পাহারায় হচ্ছে!
অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা ও টাকার কিস্তি: গত ১৩ই মার্চ ২০২৬ তারিখে রাজ্য অর্থ দপ্তর থেকে জারি হওয়া মেগা বিজ্ঞপ্তি (Memo No. 996-F(P2)) অনুযায়ী, এই বিশাল বকেয়া টাকা ধাপে ধাপে মেটানো হবে।
-
প্রথম ধাপের টাকা: আপাতত ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ চলছে।
-
কবে ঢুকবে? এই টাকা চলতি বছরের মার্চ এবং সেপ্টেম্বর মাসে দুটি কিস্তিতে কর্মীদের দেওয়া হচ্ছে।
মাদ্রাসা দপ্তরের তৎপরতা: অর্থ দপ্তরের এই কড়া নির্দেশিকাকে দ্রুত বাস্তব রূপ দিতেই এবার আটঘাট বেঁধে নেমেছে মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। কর্মীদের অ্যাকাউন্টে যাতে টাকা ঢুকতে বিন্দুমাত্র দেরি না হয়, তাই একদম নিখুঁতভাবে ডেটাবেস আপডেট ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ জোরকদমে শুরু করে দিয়েছে তারা! (সূত্র: অর্থ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার)
বকেয়া ডিএ: যে চার ক্যাটাগরির কর্মীর তথ্য চাওয়া হয়েছে
মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে মূলত চারটি ক্যাটাগরির কর্মীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বেতন বা পেনশন পান, তাদের সবাইকে এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- বর্তমানে কর্মরত কর্মী: গ্রান্ট-ইন-এইড মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নন-টিচিং স্টাফ যারা বর্তমানে চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
- ডেপুটেশনে থাকা কর্মী: যে সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারী বর্তমানে ডেপুটেশনে রয়েছেন এবং যাদের বেতন ডিডিও (DDO) সরাসরি গ্রান্ট-ইন-এইড খাত থেকে তুলে থাকেন।
- প্রাক্তন কর্মী: উল্লেখিত সময়ের মধ্যে (এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯) যারা কর্মরত ছিলেন এবং গ্রান্ট-ইন-এইড থেকে বেতন পেতেন, কিন্তু বর্তমানে আর চাকরিতে নেই।
- ২০০৮-এর পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার: যে সমস্ত কর্মী ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের আগে অবসর গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের পেনশন ডিডিও-র মাধ্যমে গ্রান্ট-ইন-এইড থেকে মেটানো হয়।
ঠিক কী কী তথ্য চাইল শিক্ষা দপ্তর? ডিআই-দের (DI) জন্য কড়া নির্দেশ!
কাজ যাতে দ্রুত হয় এবং হিসেবে কোনো গরমিল না থাকে, তার জন্য ডিআই-দের একেবারে একটি নির্দিষ্ট ছক বা ফরম্যাট ধরিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। প্রতিটি ক্যাটাগরির কর্মীর জন্য মূলত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট চাওয়া হয়েছে:
- HRMS আইডি স্ট্যাটাস: সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মীর ‘HRMS আইডি’ (HRMS ID) সিস্টেমে আগে থেকেই তৈরি করা আছে কি না?
-
ক্যালকুলেশন শিট: ডিডিও লগিনে (DDO Login) বকেয়া ডিএ-র হিসেব বা ‘ক্যালকুলেশন শিট’ (Calculation Sheet) স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কি না?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোনো লম্বা চওড়া ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই! জেলার ডিআই-দের এই নির্দিষ্ট ছকে কেবল ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ (Yes / No) লিখে দ্রুত রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে, যাতে বকেয়া টাকা মেটানোর পরের ধাপের কাজ অবিলম্বে শুরু করা যায়।
কর্মীদের ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে
যাঁদের এখনও ‘HRMS আইডি’ তৈরি হয়নি বা DDO লগিনে বকেয়া টাকার হিসেব (Calculation Sheet) দেখাচ্ছে না, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো (Technical Glitches) মিটিয়ে ফেলতেই প্রশাসনের এই মাস্টারস্ট্রোক!
-
হিসেবটা এত জটিল কেন? মাঝখানে কেটে গেছে দীর্ঘ ১১টা বছর! এই সময়ে ডিএ-র হার যেমন একাধিকবার বদলেছে, তেমনই পালটেছে পে-কমিশনও। তাই গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের টিচিং ও নন-টিচিং স্টাফদের বকেয়া টাকার একেবারে নিখুঁত হিসেব কষতে ডিডিও (DDO) পোর্টালে সঠিক তথ্য থাকাটা একদম বাধ্যতামূলক।
-
টাকা কোথায় এবং কীভাবে ঢুকবে? সরকারি নিয়ম একেবারে জলের মতো পরিষ্কার! ১. যাঁরা বর্তমানে কর্মরত আছেন, তাঁদের বকেয়া ডিএ সরাসরি জমা পড়বে জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে। ২. আর যাঁরা ইতিমধ্যেই অবসর নিয়েছেন, তাঁদের প্রাপ্য টাকা সোজা ট্রান্সফার হয়ে যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে!
-
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মেগা তৎপরতা! ভাবতে পারছেন? নোটিশ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিপুল তথ্য তলব করেছে শিক্ষা দপ্তর! এর থেকেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার, বকেয়া মেটানোর কাজ আর বিন্দুমাত্র ঝুলিয়ে রাখতে রাজি নয় প্রশাসন।
-
বুক ভরা আশা: যাই হোক, সরকারের এই যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখে গ্রান্ট-ইন-এইড শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে বিরাট আশার আলো তৈরি হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের এই প্রাথমিক কাজটুকু মিটে গেলেই তাঁদের বহু প্রতীক্ষিত পাওনা টাকা হাতে আসবে, আপাতত সেই সুদিনেরই প্রহর গুনছেন সকলে!