টাকার অভাবে পড়াশোনা নিয়ে চিন্তায়? মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ পড়ুয়াদের জন্য এবার মুশকিল আসান নিয়ে এল খোদ টাটা কোম্পানি! গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্নপূরণে তাদের এই দুর্দান্ত উদ্যোগের নাম ‘টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপ’ (Tata Capital Pankh Scholarship)। শুধু স্কুল নয়, মাধ্যমিক পাশ থেকে শুরু করে কলেজে পাঠরত সমস্ত স্তরের পড়ুয়াই এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এখানে নির্বাচিত হলে মিলবে সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে আকর্ষণীয় আর্থিক সাহায্য।
ইতিমধ্যেই চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে। এই স্কলারশিপ পেতে গেলে পরীক্ষায় কত শতাংশ নম্বর লাগবে? ফর্ম ফিলাপ করতে কী কী জরুরি ডকুমেন্টস হাতের কাছে রাখতে হবে? আর আবেদনের শেষ তারিখই বা কবে? চলুন, একনজরে সমস্ত খুঁটিনাটি নিচে থেকে জেনে নেওয়া যাক।
এক ঝলকে
টাটা পাঙ্খ স্কলারশিপ ২০২৬
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| স্কলারশিপের নাম | টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপ ২০২৬ |
| স্কলারশিপের ধরন | বেসরকারি স্কলারশিপ (Private Scholarship) |
| প্রদানকারী সংস্থা | টাটা ক্যাপিটাল লিমিটেড (টাটা গ্রুপ) |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর (Post-graduation) পর্যন্ত |
| বৃত্তির পরিমাণ | ১০,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত |
| আবেদন পদ্ধতি | সম্পূর্ণ অনলাইন (Online) |
| আবেদনের সময়সীমা | বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া চলছে |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | www.buddy4study.com |
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
আবেদনকারীকে এই স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
| যোগ্যতার মাপকাঠি | বিস্তারিত বিবরণ |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ভারতের যেকোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে একাদশ, দ্বাদশ, স্নাতক (Graduation), ডিপ্লোমা বা প্রফেশনাল কোর্সে পাঠরত হতে হবে। |
| নম্বরের কড়াকড়ি | আগের ক্লাসের বা সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অন্তত ৬০% নম্বর থাকতে হবে (প্রফেশনাল কোর্সের ক্ষেত্রে নিয়মে ছাড় থাকতে পারে)। |
| পারিবারিক আয় | আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় কোনোভাবেই ২.৫০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। |
| নাগরিকত্ব | আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা (Indian Citizen) হতে হবে। |
স্কলারশিপের পরিমাণ ও সুবিধাসমূহ
পড়াশোনার স্তর ও কোর্সের ওপর ভিত্তি করে বৃত্তির পরিমাণ আলাদা আলাদা হয়:
| পড়াশোনার স্তর | আর্থিক সহায়তার পরিমাণ |
| স্কুল পর্যায় (একাদশ-দ্বাদশ) | ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অথবা মোট কোর্স ফি-র ৮০% |
| স্নাতক (Graduation) ও ডিপ্লোমা | ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত অথবা মোট কোর্স ফি-র ৮০% |
| প্রফেশনাল কোর্স | সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত (কোর্সের ধরন অনুযায়ী অনুদান দেওয়া হয়) |
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস (কী কী কাগজ লাগবে?)
- পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর আধার কার্ড (Aadhaar Card)।
- ছবি: এক কপি সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- ভর্তির প্রমাণপত্র: বর্তমানে যে স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করছেন, তার ভর্তির রসিদ (Admission Fee Receipt), আইডি কার্ড অথবা বোনাফাইড সার্টিফিকেট।
- মার্কশিট: আগের বছরের বা গত সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট বা মার্কশিট।
- আয়ের শংসাপত্র: পরিবারের বার্ষিক আয়ের বৈধ প্রমাণপত্র বা ইনকাম সার্টিফিকেট (Income Certificate)।
- ব্যাঙ্কের তথ্য: টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাওয়ার জন্য নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ছবি (যেখানে অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্ট) অথবা একটি ক্যানসেলড চেক।
- কাস্ট সার্টিফিকেট: আবেদনকারী যদি বিশেষ কোনো সংরক্ষিত শ্রেণির (SC/ST/OBC) হন, তবে তার কাস্ট সার্টিফিকেটের কপি।
কীভাবে আবেদন করবেন
অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে আগ্রহী প্রার্থীরা নিচের এই সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে স্কলারশিপের অফিসিয়াল পোর্টাল Buddy4Study-এ যান। সেখানে নিজের মোবাইল নম্বর বা ইমেইল আইডি দিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট (Registration) তৈরি করুন।
- রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে লগ-ইন করে ‘Tata Capital Pankh Scholarship Program’ লেখা লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।
- এবার আপনার সামনে ‘Apply Now’ বাটন আসবে। সেখানে ক্লিক করে আবেদন ফর্মটি (Application Form) খুলে নিজের সমস্ত সঠিক তথ্য দিয়ে যত্ন সহকারে পূরণ করুন।
- এরপর উপরে উল্লেখ করা সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents) পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করুন এবং সবশেষে ফর্মটি ‘Submit’ করে দিন।
(সাবমিট করার পর ভবিষ্যতের জন্য ফর্মের একটি প্রিন্টআউট বা পিডিএফ কপি নিজের কাছে সেভ করে রাখা ভালো।)





