পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সম্প্রতি বড় ঘোষণা—নতুন সামাজিক সহায়তা প্রকল্প বাংলার যুব সাথী। এই স্কিমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা পাবেন মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটেই এই প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে, আর তারপর থেকেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চাকরি না থাকা যুবকদের হাতে কিছুটা হলেও আর্থিক সাপোর্ট পৌঁছে দেওয়া যাবে। অনেকেই আবার ভোটের আগে এই স্কিমকে তৃণমূল সরকারের বড় “মাস্টারস্ট্রোক” হিসেবেও দেখছেন।
এক ঝলকে
যুব সাথী প্রকল্প কারা পাবে?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee আনুষ্ঠানিকভাবে যুব সাথী প্রকল্প চালু করেন। এই স্কিমের মূল লক্ষ্য হলো—রাজ্যের ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিকভাবে একটু স্বনির্ভর করে তোলা। শর্ত হিসেবে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে, আর বর্তমানে চাকরি না থাকলেই আবেদন করা যাবে।এই প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এর মধ্যে যদি কেউ চাকরি পেয়ে যান, তাহলে সেই সময় থেকেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে—এটাই নিয়ম।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেকের ক্ষেত্রে সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আর আবেদনপত্রে কোনো ভুল না থাকা সত্ত্বেও টাকা আসছে না বা আটকে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—সমস্যাটা তাহলে কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যা হয় টেকনিক্যাল ভেরিফিকেশন, ব্যাঙ্ক ডিটেলস বা ডকুমেন্ট যাচাইয়ের দিক থেকে, আবেদনকারীর যোগ্যতা নয়।
এদিকে, এই প্রকল্পের জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁরা খুব সহজেই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেদের আবেদন স্টেটাস চেক করতে পারবেন। শুধু yubasathi.wb.gov.in-এ ঢুকে কয়েকটা ডিটেলস দিলেই জানা যাবে আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলার যুব সাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে ৭ মার্চ ২০২৬ থেকেই। আগে শোনা গিয়েছিল ১ এপ্রিল থেকে এই সুবিধা চালু হবে, কিন্তু পরে সেই তারিখ এগিয়ে এনে অনেক আগেই টাকা পাঠানো শুরু করেছে সরকার।
এই স্কিমে যাঁরা যোগ্য আবেদনকারী, তাঁরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। অর্থাৎ, কোনো ঝামেলা নেই—টাকা সোজা ব্যাঙ্কে ঢুকে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)।সবচেয়ে বড় কথা, যতদিন পর্যন্ত আবেদনকারী চাকরি না পাচ্ছেন, ততদিন এই সাহায্য চালু থাকবে—তবে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তাই অনেকের কাছেই এটা বড় একটা রিলিফ হিসেবে ধরা দিচ্ছে।
এই প্রকল্পে আবেদন করার সময় বেশ কিছু দরকারি ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়েছে। যেমন—মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিট, আধার কার্ডের জেরক্স, ভোটার কার্ডের কপি, আর ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি।এছাড়াও, যাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাঁদের জাতি শংসাপত্র দিতে হয়েছে। সঙ্গে লাগেছে সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি আর নিজের সিগনেচারও।আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—আবেদন করার সময় একটা অ্যাকটিভ মোবাইল নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কারণ, ওই নম্বরেই ওটিপি (OTP) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পাঠানো হয়।
সরকারের দাবি, এই বাংলার যুব সাথী প্রকল্পটা বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় একটা রিলিফ হতে চলেছে। চাকরি খোঁজার সময় যে নিত্যদিনের খরচ থাকে, সেটা সামলাতে এই টাকাটা কিছুটা হলেও কাজে লাগবে। শুধু তাই নয়, অনেকে এই টাকা দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা নতুন কাজের সুযোগ খোঁজার দিকেও এগোতে পারবেন।আর যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাঁদের জন্য ভালো খবর—নিজের আবেদনপত্রের স্টেটাস খুব সহজেই অনলাইনে চেক করা যায়। কী করতে হবে? প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকুন। সেখানে ‘আবেদনের অবস্থা দেখুন’ বা এই ধরনের অপশন বেছে নিন।
তারপর নিজের আবেদন নম্বর বা রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর দিন, সঙ্গে যে সিকিউরিটি কোড দেখাবে সেটা ঠিকঠাক লিখে সাবমিট করুন। ব্যাস, সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে আপনার আবেদনের বর্তমান স্টেটাস চলে আসবে—যেমন আবেদন গৃহীত হয়েছে কিনা, নথি যাচাই চলছে কি না, অনুমোদিত হয়েছে নাকি বাতিল হয়েছে—সবটাই এক নজরে দেখে নিতে পারবেন।